Help line 01755-660522

Search
ব্রণ এর সহজ সমাধান

আমাদের দেশেই শুধু নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিশোর-কিশোরীদের ব্রণের সমস্যা দেখা যায়। ব্রণ মূলত বয়ঃসন্ধিকালীন একটি সমস্যা। তবে বিভিন্ন বয়সে নারী ও পুরুষদের ব্রণের সমস্যা দেখা যেতে পারে। ব্রণের সমস্যায় চিন্তিত হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। তবে বেশি হয়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে।

ব্রণ হওয়ার কারণ

ব্রণ অনেকগুলো কারণেই হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রধান হলো হরমোন ক্ষরণের তারতম্য বা অভাব, লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া,জীবাণুর সংক্রমণ, ত্বকের অযত্ন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, তৈলাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া ইত্যাদি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ব্রণ থেকে মুক্ত থাকার প্রধান শর্ত।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে সারা দিনে। ব্রণ মূলত ত্বকে হয়। ফলে ত্বক পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেয়াল রাখতে হবে, এই শুষ্ক আবহাওয়ার দিনে ত্বকে যেন ধুলাবালু না জমে থাকে। ত্বকে ধুলোবালু জমার ফলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দেখা দিতে পারে ব্রণ।

গরমের দিনে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় বিভিন্নভাবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘাম। গরমে বাইরে গেলেই ঘাম হবে। ঘামে শরীরের পানি কমে যায়। শরীরে পানি কমে যাওয়া ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ।

ঘুমের সমস্যা, অর্থাৎ সঠিক পরিমাণে ঘুম না হওয়া অনেক রোগের কারণ। ব্রণও হতে পারে সঠিক ঘুম না হওয়ার কারণে। ঘুমানোর সময় শরীর তার নিজের কাজগুলো করতে থাকে, যা আমাদের সুস্থ থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত না ঘুমালে শরীরের নিজের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণত ঘুমের সময়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ বা তৈরির মতো জটিল বিষয়গুলো ঘটতে থাকে শরীরে। না ঘুমালে, কম বা অনিয়মিত ঘুমালে ব্রণ প্রতিরোধকারী হরমোন তৈরিতে বাধা আসতে পারে। ফলে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে-মেয়ে উভয়ের ব্রণ হয়ে থাকে। এর বড় কারণ, বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে থাকে। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা তাদের সামনে আসতে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে অবসাদ তৈরি হয়, দুশ্চিন্তা বেশি হয়, ঘুম ঠিকমতো হয় না, নিজে নিজে শরীরের যত্ন নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে না, খাবারদাবার বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে শরীরে হরমোনের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় অথবা হরমোনের অভাব দেখা দেয়। এ সবকিছুই আসলে ব্রণ হওয়ার জন্য দায়ী।

তেল-মসলাযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ। বিভিন্ন ধরনের ফার্স্ট ফুড, ডিপফ্রাই করা খাবার, কোমল পানীয় যত বেশি খাওয়া হবে, ব্রণ হওয়ার প্রবণতা তত বেশি বাড়তে থাকবে। এসব খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। খাবার হজম না হলে পেট পরিষ্কার থাকে না। পেট পরিষ্কার না থাকা বা নিয়মিত মলত্যাগ না করা শুধু ব্রণ নয়, আরও অনেক রোগের কারণ।

ব্রণ খুব সহজেই দূর হবে

এর খুব সহজ প্রতিকার হলো স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাই ব্রণের মূল প্রতিকারব্যবস্থা। আর খুব বেশি সমস্যা হলে নিজে কিছু না করে চিকিৎসকের, বিশেষ করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

বাড়ির বাইরে গেলে যখনই সুযোগ পাওয়া যাবে, তখনই পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। এতে ত্বক যেমন পরিষ্কার ও তরতাজা থাকবে, তেমনি কমবে জীবাণুর সংক্রমণ এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলতে হবে। কারণ, তৈলাক্ত ত্বকে ময়লা জমে খুব দ্রুত। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে সারা দিনে, যাতে শরীরে পানির অভাব তৈরি না হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খেতে হবে। সকাল শুরুই করতে হবে পানি পানের মধ্য দিয়ে।

প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। কারও কারও এর বেশি সময়ও ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে। ঘুমের এ সময় নির্ধারিত হবে বয়স ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। তবে সাধারণত ৬ ঘণ্টার কম এবং ৮ ঘণ্টার বেশি না ঘুমানোই ভালো। নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে যেতে হবে এবং একই সময় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। এতে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ ও তৈরি হয়ে শরীরের কাজগুলো ঠিকমতো ঘটতে থাকবে এবং ব্রণ হবে না।

ফাস্টফুড, ডিপফ্রাই করা খাবার, কোমল পানীয় বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে নিয়মিত। ফলমূল ও আঁশজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

ডা: সিফাত-ই-আমান
মেডিকেল অফিসার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *