দূর হবে খুশকি

খুশকি খুবই সাধারণ সমস্যা। প্রায় প্রত্যেক মানুষের মাথায় জীবনে কোনো না কোনো সময় খুশকি হয়েছে। খুশকি আপনার মাথার চুলের তো ক্ষতি করছেই, তার ওপরে এটা আবার মুখে ব্র“ণও সৃষ্টি করতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুশকি দূর করাই বাঞ্ছনীয়।

মানুষের মাথার চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা বা ছত্রাকই খুশকি। মূলত: মাথার তালুর ত্বকেই খুশকি বেশি দেখা দেয়। তবে কানে, নাকের ছিদ্রে, ভ্রু, বোগলেও খুশকি হয়। শরীরের এসব স্থানে খুশকি হলে তা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না, বুঝা যায় না, যেভাবে মাথার খুশকি দৃষ্টিগোচর হয়। শুষ্কতার কারণে ত্বকের ছোট ছোট মৃত কোষ খুশকি তৈরি করে।

তাহলে জানা যাক কি কারণে খুশকি হয়-

খুশকি হওয়ার কারণ: অনেক কারণেই খুশকি হতে পারে। খুশকির সবচেয়ে সাধারণ কারণ বলা যেতে পারে সেবোরেইক ডারমাটাইটিস বা ত্বকের তৈলাক্ত ও চুলকানিপ্রবণ অবস্থাকে। এক ধরনের ছত্রাক আছে যার নাম মেলাসেজিয়া। সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথার খুলিতেই এই মেলাসেজিয়া ছত্রাক থাকে।

মেলাসেজিয়া নতুন ত্বক কোষ জন্মাতে সহায়তা করে। কিন্তু ত্বকে ময়লা জমে তেল চিটচিটে অবস্থার মধ্যে এই ছত্রাক বিপদে ফেলতে পারে। এ অবস্থায় জন্মানো অতিরিক্ত ত্বক কোষগুলো মরে যায় এবং ঝরে পড়ে। মাথা থেকে ঝরে পড়া সাদা-হলদে খুশকি আসলে আমাদের ত্বকের মৃত কোষ। তবে, মাথা ছাড়াও বাহুমূল, ঊরুসন্ধিসহ শরীরের অন্যত্রও খুশকি হতে পারে। এ ছাড়া শুষ্ক ত্বকও খুশকির একটা সাধারণ কারণ।

এই তো গেলো খুশকি হওয়ার কারণ। এখন জানা যাক কিভাবে খুশকি দূর করা যায় সে সম্পর্কে-

টকদই: টকদই খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুল কন্ডিশনিং করে। মাথার তালুতে টকদই ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করা লাগান। এটি চুলে কিছুক্ষণ রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। টকদই খুশকি দূর করতে বেশ কার্যকর।

জলপাই তেল: খুশকির সমস্যা দূর করতে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহার নানা দেশে খুবই জনপ্রিয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহারে খুশকি কমে। কারণ জলপাই তেল প্রাকৃতিকভাবেই ভালো ময়েশ্চারাইজার এবং ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে বা ত্বকের আর্দ্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে।

অ্যাসপিরিন: দুটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট গুঁড়ো করে নিন। এরসাথে কিছু পরিমাণ শ্যাম্পু মেশান। তারপর এই মিশ্রণটি চুলে লাগান। এটি মাথায় রাখুন দুই তিন মিনিট। তারপর চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি গোসলের আগে ব্যবহার করুন।

কর্পূর ও নারকেল তেল: নারকেল তেল ও কর্পূরের তেল নানা ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ। আধা কাপ নারকেল তেলের মধ্যে এক চা-চামচ কর্পূরের তেল নিয়ে একটা বোতল বা পাত্রে রাখুন। খেয়াল রাখতে হবে যাতে বোতলের মুখ ভালো করে লাগানো থাকে বা পাত্রটির ঢাকনা ঠিকঠাক আটকানো থাকে, যাতে ভেতরে বাতাস না ঢোকে। শুষ্ক স্থানে এভাবে রাখা পাত্র থেকে কিছুটা তেল নিয়ে প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথায় দিন। মিনিট দশেক ধরে ঘষে ঘষে চুলের গোড়ায় মাখুন। সকালে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে টানা দুই সপ্তাহ ব্যবহার করে উপকার পেলে ধীরে ধীরে এটা একদিন পর পর মাখুন বা আরও কমিয়ে দিন।

বেকিং সোডা: মাথা ভালো করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এরপর বেকিং সোডা আঙুলের ডগায় লাগিয়ে পুরো মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর চুল পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু দেবেন না। পরের দিন শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলবেন। তবে এটা বেশি ঘন ঘন ব্যবহার করবেন না, চুল রুক্ষ হয়ে যাবে।

ঘৃতকুমারী: খুশকি ভরা মাথায় ঘৃতকুমারীর রস মেখে নিলে দারুণ আরাম পাবেন। খুশকির জ্বালায় দিনরাত চুলকানো থেকে খানিকটা ছুটিও দেবে ঘৃতকুমারীর রসের শীতল আরাম। এই উদ্ভিদ রসের সমৃদ্ধ উপাদানগুলো আপনার ত্বকের অনেক সমস্যাই দূর করবে।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেলে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আছে। যা ত্বকের ফাঙ্গাস দূর করে চুল খুশকিমুক্ত করে থাকে। একটি অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল আলাদা করে নিন। এই জেল সরাসরি মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবে খুশকি দূর করার আরেকটি উপায় হল এটি।

মেথি: দুই থেকে তিন টেবিল চা চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে বেটে পেস্ট করে নিন। মেথির পেস্টের সাথে টক দই মেশান। এই পেস্ট সারা মাথায় ভাল করে লাগান। কয়েক ঘণ্টার পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুই বার করুন। প্রাকৃতিক উপায়ে খুশকি দূর করতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন এবং নিয়মিত এই প্যাকগুলো ব্যবহার করুন।

লবণ: প্রতিদিনই কাজে লাগা লবণের অনেক ব্যবহারই হয়তো আমরা জানি না। মাথায় হালকা করে লবণ ব্যবহার করে দেখুন। প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে লবণ খুশকি দূর করতে দারুণ কাজ করবে। হালকা করে লবণ ব্যবহার করে তারপর শ্যাম্পু করলে শ্যাম্পুর পুরো সুবিধা আপনি কাজে লাগাতে পারবেন। এ ছাড়া চুলকাতে থাকা খুশকি ভরা মাথায় লবণ-চিকিৎসা দারুণ প্রশান্তিও দেবে আপনাকে।

লেবুর রস: দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে লাগান। তারপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া এক চা চামচ লেবুর রস এবং এক কাপ পানিতে মিশিয়ে নিন। এরপর এটি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন খুশকি দূর না হওয়া পর্যন্ত।

রসুন: রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান মাথার তালুর ব্যাকটেরিয়া দূর করে যা খুশকি উৎপন্ন করে। রসুন কুচি করে এর রস মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে লাগান। রসুনের এই বিশ্রী গন্ধ এড়িয়ে যেতে চাইলে রসুনের রসের সাথে মধু মিশিয়ে নিন। এটি ম্যাসাজ করে চুলে ব্যবহার করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত মেনে চললে আপনি পাবেন খুশকি মুক্ত চুল। তবে তার জন্য দরকার একটু ধৈর্যশক্তি। সেই সাথে ব্যবহার করুন-Dermedic Shampoo To Fight Dandruff & Its Causes, এই পণ্যটি ব্যাবহারে খুশকিমুক্ত চুল পাওয়ার পাশাপাশি আপনি পাবেন উজ্জ্বল ঝলমলে ও মজবুত চুল। এছাড়াও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-http://bit.ly/2JQsZVv

Facebook Comments