মুখে বয়সের ছাপ পড়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বয়সের নানা ছাপ পড়তে থাকে। ত্বকের তারুণ্য হারিয়ে যাওয়ার পেছনে শুধু বয়সই নয়, থাকে আরো অনেক কারণ। রুদ্র আবহাওয়া, ত্বকের সঠিক যত্ন না নেয়া, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাব, নিজের কিছু বাজে অভ্যাস, অতিরিক্ত পরিমানে চা/কফি পান, ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস এই সকল কারণে বয়সের ছাপ পড়ে ত্বকে। সঠিক যত্ন না নিলে এ ছাপগুলোর কারণে অনেককে বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক বলে মনে হয়। তবে ভালো খবর হলো, এসব ছাপ দূর করার উপায় আছে আপনার হাতেই।

চোখের চারপাশে ‘কাকের পা’: চোখের চারপাশের ত্বকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিছু পরিবর্তন ঘটে। এগুলো বয়সের চিহ্ন হিসেবে সর্বপ্রথম ফুটে ওঠে। এগুলো নির্ণয় করা খুব সহজ। চোখের চারপাশের ‘কাকের পা’ নামে ছোট ছোট ভাঁজের মতো এ চিহ্নগুলো ক্রমে সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ চিহ্নগুলো দূর করার জন্য আপনাকে খুব একটা পরিশ্রম করতে হবে না। সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করুন Skin clinic Emulsion Eye Contour
আর রোদে গেলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। সবচেয়ে ভালো হয় রোদ এড়িয়ে চলতে পারলে। তাই বলে কি রোদে যাবেন না? অবশ্যই যাবেন। তাই ব্যবহার করুন-Bio-Screen Sunscreen Cream

উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া: বয়সের অন্যতম চিহ্ন ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া। অনেকেই মনে করেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা আর কখনো ফিরবে না। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোষগুলোর নতুন করে গড়ে ওঠার হার কমে যায়। এ সমস্যার একটি সমাধান হতে পারে ত্বক নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করা। আর এই কাজটি সবচেয়ে ভালো করতে পারে Larel Dermo Soft Facial Cleansing Gel

ফোলা চোখ: ফোলা চোখ আপনার মুখমণ্ডলে বয়সের আরেকটি চিহ্ন। এটি নানা কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বয়স বাড়া, নির্ঘুম রাত কাটানো ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়া। এ সমস্যার সমাধানটাও সহজ। এ জন্য আপনাকে প্রচুর ঘুমাতে হবে এবং লবণাক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও ব্যবহার করুন-Skin clinic Emulsion Eye Contour

নাকের দুই পাশের দাগ: নাকের দুই পাশের গভীর দাগ (অনেকটা ব্র্যাকেট চিহ্নের মতো) থুতনির কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়, বয়স বাড়লে তা ক্রমে বাড়তে থাকে। এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে Melumin Depigmenting Night Cream ও Melumin Depigmenting Day Cream, দিনে ও রাতে এই ক্রিম নিয়মিত ব্যবহারে আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

বলিরেখা: বয়স বাড়ার অন্যতম চিহ্ন বলিরেখা। কেউই চান না, তাঁর মুখের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকুক বলিরেখা। এ দাগগুলো বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। আর সূর্যের তাপে এগুলো বৃদ্ধি পায়। আপনি দীর্ঘদিন ধরে যত সূর্যতাপ সহ্য করেছেন, তা ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। কিন্তু এরপর থেকে সূর্যের নিচে গেলে যদি কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করেন, তাহলে তা যথেষ্ট কাজে দেবে। এই সমস্যার সমাধান পাবেন বায়োজিনের এন্টি এজিং সিরিজের পণ্য ব্যবহারে।

কালো ছোপ: অনেকের ত্বকেই বয়স হলে ছোট ছোট কালো ছোপ দেখা যায়। সূর্যতাপের কারণে ত্বকে এ ধরনের চিহ্ন দেখা যেতে পারে। সানস্ক্রিন ব্যবহার ছাড়াও বড় হ্যাট, ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার এ সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া এ সমস্যা মোকাবিলায় আলাদা কসমেটিকসও পাওয়া যায়। অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। ২০++ এসপিএফ মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উত্তম। কালো ছোপ দূর করার জন্য ফেসিয়াল করা শুরু করা উচিৎ। চাইলে ব্লিচও করতে পারেন।

ঠোঁটের চারপাশের বলিরেখা: অনেকেরই ঠোঁটের চারপাশে ছোট ছোট ভাঁজ বেড়ে ওঠে। ধূমপান করলে এ সমস্যা বেশি হয়। এ সমস্যা সমাধানে ধূমপান ত্যাগ করা কার্যকর একটি উপায় হতে পারে। এছাড়া বায়োজিনের ‘সিরাম’ ব্যবহার করুন। দাগগুলো ঢেকে রাখতে মেয়েরা কৌশলে লিপ লাইনার ব্যবহার করতে পারেন।

চেহারায় বয়সের ছাপ এড়াতে পরিবর্তন আনুন খাবারে

দৈনিক খাদ্য তালিকায় যোগ করে নিন জরুরী কিছু খাবার, দেখবেন বলিরেখা দীর্ঘদিন দূরে থাকবে আপনার ঝলমলে চেহারা থেকে। বলিরেখা ঠেকাতে পারে যে দ্রব্য, তার নাম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। সুতরাং বলিরেখা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে সেই সকল খাদ্য বেছে নিতে হবে যাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে প্রচুর পরিমাণে।

১. অভ্যাস করুন তাজা ফল খাবার। ক্যারোটিনসমৃদ্ধ ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যেমন- পাকা কলা, পাকা পেঁপে, পাকা আম, পাকা পেয়ারা, লাল তরমুজ, বেদানা ইত্যাদি। বেছে নিন ক্যারোটিন সমৃদ্ধ রঙিন ফল।

২. শাকসবজিতেও থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমাদের একান্ত পরচিত সবজি গুলোই, যেমন-পালংশাক, লাউশাক, ঢেঁড়স, গাজর, বাঁধাকপি, পাকা কুমড়া, টমেটো, ক্যাপ্সিকাম ইত্যাদিতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যান্সার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় টমেটো এবং তরমুজে। শসাও উপকারী তারুণ্য ধরে রাখতে। আছে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

৩. ডাবের পানি খাবার অভ্যাস করুন কোমল পানীয়ের পরিবর্তে। ডাবের পানি তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক।

৪. দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার খান। যেমন দই, ছানা, পনির ইত্যাদি। ডিমও রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়।

৫. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান। আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত যে ক্ষয় হয়, বয়সের যে পরিবর্তন আসে তা মূলত অক্সিডেশনের জন্য। ভিটামিন সি’তে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষাবরণকে মজবুত করে, সহজে ভেঙে যেতে দেয় না। লেবু, কাচা মরিচ, টক জাতীয় যে কোনও ফল ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস।

৬. রোজ খান বাদাম জাতীয় ফল। চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম, আখরোট ইত্যাদি বাদাম খুবই উপকারী বলিরেখা ঠেকাতে। এগুলো ‘ই’ সমৃদ্ধ। চামড়া মসৃণ রাখতে কাজে আসে অনেকখানি।

৭. বেরি জাতীয় রসালো ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা চামড়ার জন্য উপকারী। যেমন স্ত্রবেরী, আঙ্গুর, ব্লু বেরী ইত্যাদি। কিসমিসেও তাই মিলবে এই পদার্থ

৮. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে সবুজ চা অতুলনীয়। দৈনিক অন্তত ২ কাপ সবুজ চা বা গ্রিন টি পান করুন

৯. সকালে খালি পেটে ঘৃতকুমারীর রস পান করা ভালো। চামড়ার ভাঁজ কমে আসে।

১০. তিল ও সূর্যমুখীর বীজেও আছে প্রচুর ভিটামিন ই। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।

১১. মাংস খাওয়া পরিহার করে মাছ খান প্রচুর।

সকলে চায় নিজেকে সুন্দর দেখাতে। সবার সৌন্দর্যের কিছু গোপন কারণ থাকে। কেউ চায় না তার সৌন্দর্য রহস্য জেনে অন্য মানুষ সুন্দর হোক। কিন্তু আপনি যদি নিজে নিয়ম মেনে কিছু কাজ করেন তবে হয়ে উঠবেন সৌন্দর্যের আধার। এইসব পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে আপনার মুখের বয়সের ছাপ দূর হবে। এছাড়াও আরও টিপস ও পরামর্শের জন্য ভিজিট করুন-https://bit.ly/2RFTihF

Facebook Comments