বলিরেখা দূর করার উপায়

আমাদের যখন বয়স বাড়ে, তখন কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়। অর্থাৎ, জৈবিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। এই প্রক্রিয়াটি শরীরে, বিশেষ করে ত্বকে সহজেই ফুটে ওঠে। মানুষের বয়স হলে এনজাইম কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন ত্বকে ফুটে উঠে বলিরেখা।

এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত ধূমপান, পানি কম খাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন, কম ঘুমানো, ত্বকে অতিরিক্ত আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব-এর প্রত্যেকটা প্রভাবই বেশি বয়সের আগেই মুখে বয়সের ছাপ (বলিরেখা) ফেলে দেয়।

তবে এই সমস্যায় সবচেয়ে খারাপ ভূমিকা নেয় মানসিক চাপ। যারা দীর্ঘ সময় অবসাদে ভোগেন বা অশান্তির মধ্যে থাকেন, তাদের ত্বকে বয়সের ছাপ অনেক দ্রুত আসে। ভাবছেন বয়স্কে রুখে দেয়ার কোন উপায় নেই? আছে বৈকি! বয়স হয়েছে বলেই চেহারায় ও শরীরে সেই ছাপ বহন করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি চাইলে ঘরে বসে খুব সহজ কিছু উপায়েই আপনার কুঁচকে ও ঝুলে যাওয়া ত্বককে করে ফেলতে পারেন অনেকটাই টান টান ও যৌবন দীপ্ত। কীভাবে? চলুন, জেনে নিই বলিরেখা দূর করার কিছু জাদুকরী কৌশল।

শসার প্যাক: শসাতে সিলিকা নামক একটি উপাদান আছে যা ত্বকের চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে । ৩ চা চামচ শসার পেষ্ট, ১ চা চামচ ডিমের সাদা অংশ, ২ চা চামচ লেবুর রস, ২ চা চামচ পুদিনা পাতার রস, পর্যাপ্ত পরিমাণে আপেলের পেষ্ট দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি সারা মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দুধ এবং কোকো পাউডার: ২ টেবিলচামচ কোকো পাউডার এবং ১ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। ভালোভাবে মুখে লাগান। শুকানোর জন্য ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দুধ এবং কোকো পাউডারের প্যাকটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বককে করবে মসৃণ এবং উজ্জ্বল।

কলার প্যাক: কলাতে এমন কিছু উপাদান আছে যা বয়সের ছাপ দূর করে থাকে। মাঝারি আকারের একটি কলার পেষ্ট, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ ক্রিম দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মুখে, ঘাড়ে ভালভাবে লাগান। ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

আলুর প্যাক: ১ টি আলুর পেষ্ট, ২ টেবিল চা চামচ আপেলের পেষ্ট দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি ভালো ভাবে ঘাড়, মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বককে ন্যাচারাল গ্লো দেয় এবং নিস্তেজ ত্বককে উজ্জ্বল করে থাকে।

ডিম এবং মধুর প্যাক: ২ টেবিল চামচ ডিমের সাদা অংশ, ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে মেখে প্যাকটি শুকানোর জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পান দিয়ে মখ ধুয়ে ফেলুন। ডিমের গন্ধ দূর করার জন্য কয়েক ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

পেঁপে এবং টক দই: ২ টেবিল চামচ পেঁপের পেষ্ট এবং ২ টেবিলচামচ টক দই মিশিয়ে একটি পেষ্ট তৈরি করে নিন। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পেঁপে ত্বকের মৃত কোষ দূর করে থাকে।

ওটমিল এবং মধুর প্যাক: সমপরিমাণ মধু এংব ওটমিল মিশিয়ে নিন। মুখে ভাল ভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

বেদানা: চিকিৎসকরা প্রায়ই রুগীকে বেদনা খেতে বলে থাকে। কারণ বেদানায় থাকে দ্রুত হিমোগ্লোবিন তৈরির উপাদান। রক্তস্বল্পতায় যারা ভোগেন, তাদের জন্য এই ফল খুব উপকারী। কিন্তু শুধুমাত্র হিমোগ্লোবিন তৈরির উপাদানই নয়, এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফলে ত্বকের জন্যও এই ফলটি খুব কার্যকরী।

গাজর: গাজরে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। তা ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। এই উপাদানটি ত্বক পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। বাতাসে থাকা দূষিত পদার্থ বা কণা, যা কি না ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে, তার হাত থেকেও ত্বককে রক্ষা করে এই বিটা ক্যারোটিন।

টমেটো: টমেটোতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে আয়রন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফলে ত্বকের গুণমান বজায় রাখতে এবং ত্বক টানটান রাখতে টমেটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতেও সাহায্য করে টমেটো।

লাল বেল পেপার: এই সবজিটি ভিটামিন সি এবং ক্যারোটেনয়েডস নামক অ্যান্টিঅক্সিজেন্টে পরিপূর্ণ। রান্নায় এই সবজিটি বেশি পরিমাণে থাকলে ত্বকের জন্য ভালো হয়। ত্বকের ভাঁজ কমে যায়।

পাকা পেঁপে: পাকা পেঁপে এমনিতেই শরীরের জন্য খুব উপকারী। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। এ ছাড়া ফসফরাসের মতো লবণও রয়েছে পেঁপের মধ্যে। বি কমপ্লেক্স ভিটামিনও এই ফলে কম নয়। ফলে এটি সব মিলিয়ে শরীরের জন্য খুব ভালো।

শীতল জলের মাছ: শীতল জলের মাছ ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। শীতল জলের মাছের মধ্যে স্যামন এই বিষয়ে সবচেয়ে ভালো। এই মাছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটোরির মতো উপাদান থাকে। এটি ত্বকের জন্য খুব উপকারী।

গ্রিন টি: গ্রিন টি ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান। এতে রয়েছে শক্তিশালী পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। এটি ত্বককে অতিরিক্ত আস্তরণ দেয় না ত্বককে রোদ বা ক্ষতিকারক দূষিত বস্তুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। তার পাশাপাশি ত্বকের নিয়মিত যে ক্ষয় হয়, তাও দ্রুত পূরণ হয় এই গ্রিন টির কারণে।

অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য খুব ভালো। অলিভ এ রয়েছে ভরপুর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এই তেল দিয়ে যদি নিয়মিত ত্বকে মাসাজ করা যায়, ত্বকের গুণমান বাড়ে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ফাটার হাত থেকে এই তেল ত্বককে রক্ষা করে। ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া এই তেল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।

শুষ্ক ও সাধারণ ত্বকের জন্য ঘরোয়া প্যাক

-কাঠবাদাম, দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগাতে হবে। ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

-দুধের স্বর, কাঠবাদাম ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগাতে পারেন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

-ডিমের কুসুম ও ওটস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে।

-মোটর ডালের গুঁড়ো, ডিমের কুসুম ও মধু মিশিয়ে মুখে দেওয়া যেতে পারে। ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মিশ্র ত্বকের জন্য

-ডিমের সাদা অংশ, কমলার রস ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০-২৫ মিনিট রেখে কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

-দুধের সর, ওটস ও দুই-তিন ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে দিতে পারেন।

এই প্যাকগুলো সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিতভাবে মুখে লাগান। উপকার পাওয়া যাবে। রাতে বেসন অথবা দুধ ও মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগানো বাধ্যতামূলক। বয়স হলে অ্যান্টিরিঙ্কেল ডে ও নাইট ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করে দিন। এ ছাড়া চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার জন্য দুই টুকরা শসা লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন।

একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা খুব জরুরি। যারা খুব বেশি চিনি খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কারণ অতিরিক্ত চিনি বা চিনিজাতীয় খাবার চেহারায় দ্রুত বয়স্ক ভাব ফুটিয়ে তোলে। তাই আজ থেকেই ছেড়ে দিন এই অভ্যাস। খেয়াল রাখা উচিত আমাদের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও। মূলত ভিটামিন এ, ই, ডি ও সি-যুক্ত খাবার খেতে হবে।

এইসব পদ্ধতির পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন বায়োজিনের এন্টি এজিং সিরিজের পণ্য। এছাড়াও আমাদের স্কিন কেয়ার ক্লিনিকে এসে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আপনার স্কিনের অবস্থা বুঝে ডাক্তাররা সাজেস্ট করে দিবে আপনি কোন পণ্য ব্যবহার করবেন। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-http://bit.ly/2UPXSA6

Facebook Comments