রোজায় ত্বকের যত্ন

শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। মুসলিম জাহানের অশেষ আকাঙ্খিত মাস। সংযম পালন করা, লোভ ও পাপ না করার মাস। এই মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোজা। সবাই বেশি বেশি পুণ্যের আশায় এবং অতীতের করা পাপ থেকে মুক্তি পেতে রমজান মাসে ভালো কাজগুলাই বেশি বেশি করার চেষ্টা করে।

রোজার ফজিলত অনেক। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি চিন্তা নাও করা হয় তাহলেও বলা যায় রোজা মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী। এটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে প্রমাণিত। যেহেতু এই সময়টাতে প্রচন্ড গরম পড়েছে, সেহেতু গরমের সময় রোজা রাখার জন্য দেখা যায় আমাদের ত্বকে নানা সমস্যা। তার মধ্যে পানিশূন্যতা অন্যতম। গরমে শরীর থেকে অনেক পানি ঘাম হয়ে বেরোয়। অতিরিক্ত ঘাম ও রোজা রাখার কারণে পানির অভাবে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, ত্বক শুকনো হয়ে যায়, ঘামাচির চুলকানি, র‌্যাশের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই ত্বক প্রাণহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। রোজায় ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার কারণে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়।

সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে ত্বকে আর্দ্রতার পরিমাণও কমে। সারাদিন রোজা রাখার কারণে ত্বক মলিন আর নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। তাই এই সময় ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। আসুন জানি রোজা রেখেও ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখার কিছু উপায়।

১. সপ্তাহে ৩ দিন ১ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদের গুঁড়ো ও ১ টেবিল চামচ চন্দন কাঠের গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকের ব্রণ দূর কারার পাশাপাশি ব্রণের দাগ দূর করবে।

২. কাঠবাদাম বাটা, ঠা-া দুধ এবং গোলাপজল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহার করুন। এটি শুষ্ক পানিশূন্য ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
মুখের সাথে সাথে শরীরেরও যত্ন নিন। নিয়মিত ত্বকের উপযোগী ভালো কোনো বডি লোশন ব্যবহার করুন।

৩. সমপরিমাণ বাটা কাঁচা হলুদ এবং চন্দন কাঠের গুঁড়া একত্রে নিয়ে এতে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি এরপর ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর শুকিয়ে গেলে মুখ ঠা-া পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি শুধু ব্রণ দূর করার কাজ করে না বরং ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।

৪. কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। মসুরির ডাল আর চাল ভিজিয়ে ভালো করে পিষে নিন। ওই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়া মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত মুখে লাগান। তাহলে সারাদিন রোজা রাখার পরও ত্বকের জেল্লা বাড়বে।

৫. পাকা পেঁপে চটকে নিন এক কাপ। এর সাথে মেশান এক টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চালের গুঁড়া। মিশ্রণটি মুখসহ পুরো শরীরে লাগান। ২০-২৫ মিনিট ম্যাসাজ করে গোসল করে ফেলুন। পেঁপে ছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা রস।

৬. টমেটো, কলা, শসা একসঙ্গে মিলিয়ে প্যাক তৈরি করে ইফতারের ঘণ্টাখানেক পর ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মালটার রসও সপ্তাহে ৪-৫ দিন ত্বকে লাগাতে পারেন। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ত্বকের শুষ্কতা কাটাতে সপ্তাহে ৪ দিন টমেটোর রস লাগাতে পারেন। নিয়মিত এটি করলে দেখবেন ত্বকের শুষ্কতা কেটে যাবে।

৭. যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে ২ দিন শসা, গাজর, পুদিনা পাতার রস ও মসুর ডাল বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট পর ঠা-া পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৮. যাদের ত্বক মিশ্র তারা এ সময় বেসন দিয়ে মুখ ধুলে বেশ উপকার পাবেন। যাদের ত্বক স্বাভাবিক তারা রান্নাঘরের কাজ করতে করতে ডালের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। আলু কেটে তার রস মুখে লাগাতে পারেন। ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুতে পারেন।

৯. পাঁচটি নিমপাতা বেটে এর সঙ্গে এক চামচ মুলতানি মাটি, এক চামচ মধু, এক চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে সারাদিনে যেকোনো সময় একবার পুরো মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করলে ব্রণ এবং ব্রণের দাগও চলে যাবে।
১০. আপেলের রস খুব উপকারী। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো। কোরানো আপেলের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন অথবা সরাসরি আপেলের রস ত্বকে লাগাতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে ৩ দিন ব্যবহার করলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যাবে।

কিছু টিপস:

– প্রচুর ফল, শাকসবজি খেতে হবে।

– প্রচুর পানি পান করতে হবে।

– সুন্দর ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই।

– তবে শুধু মুখের ত্বকের যত্ন নিলে চলবে না, যত্ন নিতে হবে দেহের ত্বকেরও।

– রোজার সময় কড়া গন্ধযুক্ত সুগন্ধি এড়িয়ে হালকা ও মিষ্টি সুবাস বেছে নিন।

– এছাড়া ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

– ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

– যতটুকু সম্ভব ভাজাপোড়া আর তেলজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

যাদের ত্বক শুষ্ক তারা নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহার করুন বায়োজিনের প্রোডাক্ট- Larel Dermo Soft Whitening Face Cream, Mincer Collagen Moisturizing Light Facial Cream, Mincer Vitamins Philosophy Rebuilding Day Night Cream, এতে ত্বকের শুষ্কতা দূর হওয়ার পাশাপাশি ত্বক সজীব হবে। যাদের ত্বক সাধারণ বা তৈলাক্ত তারা ওয়াটার বেইজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন আর যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ওয়াক্স বা ইমোলিয়েন্ট সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এগুলো ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা যোগানোর পাশাপাশি ত্বক ফেটে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। আর ব্রণ সমস্যা সমাধানে Dr. Light for acne cure ট্রিটমেন্ট তো আছেই। 

যাদের ত্বক শুষ্ক তারা অবশ্যই রমজান মাসে সব রকমের টোনার জাতীয় প্রসাধনী এড়িয়ে চলবেন। টোনার জাতীয় প্রসাধনী ত্বককে আরো শুষ্ক করে তোলে। রমজানে অনেকের ঠোঁট ফেটে যায়।যাদের ঠোঁট ফেটে যায় তারা রাতে ঘুমাবার আগে ঠোঁটে ভালো করে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাবেন। বেশি শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে হালকা গরম নারিকেল তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বক ভালো রাখতে ইফতারিতে ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার কম খেয়ে ঘরে তৈরি জুস খাবেন। বেশি বেশি ফল, দই, চিড়া ও শরবত খান।

এইসব পদ্ধতিগুলো ফলো করলে পানিশূন্যতার কারণে মুখে ব্রণ উঠা বন্ধ হবে। আর যেকোনো পরামর্শের জন্য বায়োজিন তো আছেই। স্কিন কেয়ার বিষয়ক যেকোনো টিপস ও পরামর্শের জন্য ভিজিট করুন-https://bit.ly/2RFTihF

Facebook Comments