সানস্ক্রিন বা সানব্লক কেন ব্যবহার করবেন

আমাদের নিত্যদিনকার একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে রূপচর্চা। সময় যত গড়িয়েছে সেই সাথে রূপচর্চার ধরণ বদলেছে। সভ্যতা যত আধুনিক হয়েছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিক হয়েছে রূপচর্চার ধরণ, কলাকৌশল। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রূপচর্চার কৌশল পাল্টেছে।
আধুনিক যুগে রূপচর্চা শুধুমাত্র মেক-ওভারে সীমাবদ্ধ নয়। রূপচর্চার অনেকটা জায়গা যখন করে আছে ত্বকের যত্ন। সভ্যতা আগানোর সাথে সাথে মানুষ বুঝতে শিখেছে ত্বকের যত্ন নেয়াটা কত জরুরি। ত্বকের যত্নে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি, যুক্ত হচ্ছে আরও আধুনিক ট্রিটমেন্ট। এটা কিছুদিন আগেও মানুষের কল্পনাতেও ছিল না। আর এটাও সত্যি আগে তুলনায় মানুষ এখন ত্বকের যত্নে অনেক বেশি সচেতন।
এখন আসা যাক ত্বকের যত্নের বিষয়টাতে। মানুষ এখন ত্বকের যত্নে ব্যবহার করছেন বহু ধরণের প্রোডাক্ট। যাচ্ছেন এক্সপার্টদের কাছে। আর ডার্মাটোলজিস্টরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সাজেস্ট করছেন ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজিং ক্রীম, সেরাম বা সানস্ক্রিন। আজকে আমরা জন্য সানস্ক্রিন কেন ব্যবহার করবো তার কিছু কারণ।

রোদে পোড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি কার্যকরী উপায় হলো সানস্ক্রিন বা সানব্লকের ব্যবহার। যে দেশে রোদের তীব্রতা যত বেশি, তত এসপিএফ (সান পোটেক্ট ফ্যাক্টর) বেশি সানব্লক বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। যেমন- কোনো সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশনের গায়ে এসপিএফ ৩০ লেখা থাকার মানে হচ্ছে এটি আপনার ত্বকের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি সুরক্ষা দেবে। ব্যবহারের পর যদি আপনি দেড় ঘণ্টা বাইরে থাকেন, তবে এটা আপনাকে রোদের প্রকোপ থেকে রক্ষা করবে। তাই আপনি যত বেশি সময় রোদে থাকবেন, তত বেশি এসপিএফয়ের সানস্ক্রিন বাছাই করবেন।

আমরা মনে করি শুধুমাত্র গরমকালেই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত্। আসলে আমাদের এই ধারণাটাই ভুল। রোদ তো সারা বছরই থাকে। কখনও কম আবার কখনও বেশি। তাহলে শুধুমাত্র গরমকালেই কেন ব্যবহার করা হবে সানস্ক্রিন? তাই সারাবছরই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সানব্লক ও সানস্ক্রিন কী
অনেকের একটা ভুল ধারনা রয়েছে যে সানব্লক ও সানস্ক্রিন একই জিনিস। কিন্তু একটু পার্থক্য আছে। সানব্লক ও সানস্ক্রিন একই কাজে ব্যবহৃত হয় কিন্তু কাজ করার ধরন আলাদা। সানস্ক্রিন ত্বকের উপর প্রলেপ তৈরি করে, এ কারণে অতি বেগুনী রশ্মি ত্বকের ভিতরে যেতে পারে না। সানব্লক সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করে, ফলে রশ্মি ত্বক পর্যন্ত যেতে পারে না। এতে থাকে-

• পেডিমেট
• সিনামেট
• এন্থ্রানিলেটস
• স্যালিসাইলেটস
• অক্সিবেঞ্জন
• অ্যান্টি অক্সিজেন ফ্রি র্যাোডিকেল
• জিঙ্ক অক্সাইড
• টাইটেনিয়াম অক্সাইড
• প্যারাঅ্যামিনো বেঞ্জয়িক এসিড

কেন ব্যবহার করা উচিত সানস্ক্রিন
সূর্যের আলোতে থাকে ইউ ভি-এ, ইউ ভি-বি, ইউ ভি- সি এই তিন ধরণের ক্ষতিগ্রস্ত রশ্মি। এর থেকে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয় যেমন- ত্বকে কালো ছোপ পরে যাওয়া, অল্প বয়সে মুখে বলিরেখা দেখা দেওয়া, এমনকি এই রশ্মির প্রভাবে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ত্বক পাতলা হয়ে যেতে থাকে, ত্বকের মসৃণতা কমে যায়, টানটান ভাব কমে যায়, আরও অনেক সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে এলারজি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে।
সানস্ক্রিন ব্যবহার নিয়মিত ব্যবহার করলে এই সমস্যা হওয়ার থেকে নিজেকে প্রটেক্ট করা যায়। আসলে সানস্ক্রিনে থাকা এস পি এফ আমাদের ত্বককে প্রটেক্ট করে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি থেকে।

আমাদের কি ধরনের সানস্ক্রিন ব্যাবহার করা উচিত?
আসলে এর উত্তরটা আপনার কাছেই আছে। আপনি কতটা সূর্যের তাপ সহ্য করতে পারেন তার উপর নির্ভর করেই আপনার সানস্ক্রিন ব্যাবহার করা উচিত।সব সময়ই আমরা বলে থাকি যে বেশী পরিমান সূর্য রশ্মি UVA এবং UVB দুই ধরনের সূর্্য্য রশ্মিকে প্রতিরোধ করতে পারে।
অনেক আফটার শেভিং লোশন এবং আদ্রতা রক্ষাকারী কসমেটিকস (যেগুলো সাধারনত SPF15 মানের চেয়ে বেশি মানের) যথেষ্ট ব্যাবহার করেও প্রতিদিন কয়েক মিনিটের জন্য নিরপদে সূর্য থেকে ঘোরে আসা যায়।যদি আপনি বাইরে কাজ করেন অথবা ঘরের বাইরে প্রচুর সময় কাটান তাহলে আপনার জন্য অধিকতর ভাল, পানি রোধক এবং সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে পারেন এমন সানস্ক্রীন ব্যাবহার করা প্রয়োজন।
“পানি রোধী” এবং “বেশি পানি রোধী” টাইপের সানস্ক্রীনগুলো খুব গরমের দিন এবং খেলাধুলা করার সময়টার জন্য খুবই উপযোগি।কারন, এসময় আপনি ঘেমে গেলে ঘাম বেয়ে বেয়ে আপনার চোখে পড়তে পারে।কিন্তু এই ধরনের সানস্ক্রীন প্রতিদিন ব্যাবহার করা যায় না।এটা খুব আঠাঁলো তাই মেক আপ হিসাবে এটা ব্যাবহার করবেন না। এবং দুই ঘন্টা পর পর পুনরায় ব্যাবহার করতে হবে।

তৈলাক্ত, শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বক
বাজারে অনেক রকমের সানব্লক ও সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। যেমন- অয়েনন্টমেন্ট, ক্রিম, জেলি, লোশন, স্প্রে, পাউডার, ওয়াস্ক স্টিক ইত্যাদি। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তবে সানব্লক লোশন বেছে নিন অথবা সানস্ক্রিন পাউডার। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম ফরমুলেশন। ত্বকের যে অংশে লোম রয়েছে, সেখানে জেল ব্যবহার করুন, বিশেষ করে হাত ও পায়ে। চোখের আশপাশে ওয়াস্ক স্টিক ব্যবহার করুন। ঠোঁটের জন্য সানস্ক্রিনযুক্ত লিপবাম। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল তাঁরা শিশুদের উপযোগী সানব্লক ব্যবহার করুন। শিশুদের সাধারণত এসপিএফ ১৫ মাত্রার সানব্লক দেওয়া হয়।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করার সময় আমরা যে যে ভুলগুলো করে থাকি-

১) সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করার সময় অবশ্যই এক্সপায়রি ডেটটা দেখে নেবেন। কারণ, এক্সপায়রি ডেট চলে যাওয়া ওষুধের মতোই ক্ষতি করে সানস্ক্রিনও। তাই যাঁরা নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না, তাঁরা সানস্ক্রিন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একবার এক্সপায়রি ডেটটায় চোখ বুলিয়ে নেবেন।
২) শুধু গরমকালেই নয়, সারাবছরই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত্। এমনকি শীত এবং বর্ষাকালেও। কারণ, সানস্ক্রিন আমাদের ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে বাঁচায়। এই সানস্ক্রিন লাগানোর কিছুক্ষণ পরেই তা ত্বকে টেনে নেয়। তাই সারাদিনে কয়েক ঘণ্টা অন্তর অন্তরই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে হয়।
৩) সানস্ক্রিনের ব্যবহার করা নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ত্বককে আরও সুরক্ষিত রাখার জন্য মেক-আপের ওপরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত্। এতে ত্বক আরও ভালো থাকে।
৪) অনেকেই মনে করেন সানস্ক্রিন গরমের হাত থেকে ত্বককে বাঁচায়। তাই তাঁরা ঘরের ভেতরেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। আসলে এই ধারণাটা ভুল। সানস্ক্রিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে আমাদের ত্বককে বাঁচায়। তাই যখন ঘরের ভেতরে বা অফিসের ভেতরে রয়েছেন তখন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
৫) সারা শরীরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত্ নয়। শরীরের যে যে অংশে সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে, সেই সমস্ত জায়গায় ব্যবহার করতে হয় সানস্ক্রিন। শরীরের যে সমস্ত জায়গা ঢাকা থাকে সেখানে একেবারেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত নয়।

তাই ত্বকের জন্য উপকারী সানস্ক্রিন বা সানব্লক ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী বাছাই করুন সানস্ক্রিন বা সানব্লক। ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। আর এই সব সেবাই পেতে পারেন বায়োজিনের স্কিন কেয়ার ক্লিনিকে।

Facebook Comments