গরমে ত্বকের যত্ন

প্রকৃতির পালাবদলে শুরু হয়ে গেলো নতুন বছর। আর নতুন বছর মানেই পয়লা বৈশাখ। নববর্ষকে বরণ করে নিতে অন্যান্য বছরের মতো এবছরও কোন উৎসব-আয়োজনের কমতি ছিল না। নতুন বছরে আপনি নিয়েছেন অনেক পরিকল্পনা, আগের বছরের অপূর্ণতাগুলোকে ঘোঁচাতে করেছেন নানা প্ল্যান। নিজেকে আরো সুন্দর ও লাবণ্যময়ী করতে ভেবেছেন অনেককিছুই। তবুও একটু ভয় ভীতি তো থেকেই যায়। বৈশাখ বলে কথা।

শুরু হয়েছে বৈশাখ মাস। সেই সাথে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে শুরু করেছে গরম। আসলে এই সময়ে ত্বকের যথাযথ যত্নটা কিভাবে নেবেন? বসন্তে ত্বকের জন্য যা যা করেছেন তার অনেক কিছুই বৈশাখ বা গরমে করা ঠিক হবে না। আপনি হয়তো ভাবছেন- তাহলে তো বেশ ঝামেলায় পড়া গেলো? চিন্তার কিছুই নেই। বায়োজিন আছে আপনার পাশে আপনাকে এর সঠিক সমাধান দিতে। বায়োজিন বলছে গরমে ত্বকের যত্নটা কেমন হওয়া উচিত। চলুন দেখে নেই-

তেল বর্জন: ‘ক্যারিয়ার অয়েল’ ও ‘এসেন্সিয়াল অয়েল’ গরমকালে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ‘ক্যারিয়ার অয়েল’ বা বাহক তেল ব্যবহারে ত্বক তৈলাক্ত লাগে এবং ত্বকে নানাধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে, ‘এসেন্সিয়াল অয়েল’ ত্বকের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই ব্যবহার করতে হবে ‘এসেন্সিয়াল অয়েল’য়েল নির্যাস সমৃদ্ধ জেল ভিত্তিক মৃদুমাত্রার ও মানানসই ময়েশ্চারাইজার।

টোনার: গরমে ত্বকের স্বাভাবিক পরিচর্যা চালিয়ে যেতে হবে। উচ্চ অ্যালকোহল সমৃদ্ধ টোনার এড়িয়ে চলতে হবে কারণ, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক ও ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিক টোনার যেমন, গোলাপজল বা শশার রস ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক কোমল ও মসৃণ থাকে।

ফেইস মিস্ট: ব্যাগে সাধারণ ফেইস মিস্ট রাখতে হবে যাতে যেকোন সময় ব্যবহার করতে পারেন।

লিপ বাম: সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ঠোঁট শুষ্ক ও পানিশূন্য করে ফেলে। লিপ বাম ব্যবহার ঠোঁটকে সূর্য থেকে রক্ষা করে। সানব্লক সমৃদ্ধ লিপ বাম অথবা প্রাকৃতিক উপাদান যেমন, ‘ক্যারট সিড ওয়েল’, কাঠবাদাম তেল, ‘সিয়া বাটার অয়েল’ ও অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণে তৈরি লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন।

এক্সফোলিয়েট করুন: গরমের সময় ত্বকের মরা কোষ দূর করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য ত্বককে এক্সফোলিয়েট করা জরুরি। কারণ এ সময় ধুলাময়লা জমে ত্বক অপরিচ্ছন্ন হয় বেশি। চার-পাঁচ চামচ বেসনের সাথে এক চামচ হলুদ, পাঁচ-ছয় ফোঁটা গোলাপজল ও দুধ মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। আধঘণ্টা পর ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন।

রোদ এড়িয়ে চলুন: বেসন ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে খুব কার্যকর। বেসনের সাথে টক দই ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে লেবুর রস ভালো কাজ করে। পেঁপে প্রাকৃতিক কিনজার হিসেবে ভালো কাজ করে। তাই ত্বক পরিষ্কার করতে দুই টেবিল চামচ চটকানো পেঁপের সাথে এক চা চামচ মধু ও একটা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বককে শীতল রাখুন: গরমে ত্বক শীতল রাখা খুব প্রয়োজন। এক টেবিল চামচ কোরানো শসার সাথে এক টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। খুবই সতেজ অনুভব করবেন। এ ছাড়া পুষ্টিকর খাবার, ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম ত্বক ভালো রাখার জন্য খুবই জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: এই গরমের দিনে শরীর দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা। এই সময়ে সূর্যের প্রখরতা খুব বেশি থাকে। তাই এই সময়টাতে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে ছাতা ব্যাবহার করুন।

সঠিক খাবার খান: গরমে এমন খাবারগুলো বাছাই করুন, যেগুলো আপনাকে সতেজ রাখে। ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খান এবং চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। রান্নায় খুব বেশি মসলা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ভুনা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

সূর্যকে ভয় নয়: সূর্যকে ভয় পাবেন না। সে শুধু আপনার ত্বকের ক্ষতিই করে না, উপকারও করে। সূর্যের রশ্মি আপনার শরীরে সেরোটোনিন হরমোন উৎপাদোন করতে সাহায্য করে, যা আপনাকে প্রাণবন্ত রাখে।

-ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে বেসন বেশ কার্যকরী। বেসনের সঙ্গে টক দই ও কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে লেবুর রসও ভালো কাজ করে।

-গরমে ত্বক স্বাভাবিক রাখতে ১ টেবিল চামচ কোরানো শসার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এ প্যাকটি ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে আরো সতেজ। এছাড়া ত্বক ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবার, ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি।

-সপ্তাহে চারদিন উপটানের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে সারা শরীরে মাখুন। ১০ মিনিট রেখে নরম কাপড় দিয়ে ঘষে তুলে ফেলুন। এরপর গোসল করে ফেলুন। দেখবেন এতে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।

-১ পিস পাউরুটি, এক চামচ মধু, ২ চা চামচ দুধ, আধা চা চামচ কমলালেবুর রস মিশিয়ে যেখানে ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস আছে সেখানে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট, শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩দিন ব্যবহার করুন।

শীতে ত্বকের প্রয়োজন ছিলো প্রচুর পরিমাণে ‘ময়েশ্চারাইজিং’, তবে গরমে ত্বকের যত্ন নিতে অনেক বেশি কুশলী হতে হবে, কারণ সবকিছুই চাইতে সঠিক পরিমাণে। আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মী ও ঘাম থেকে রক্ষা এবং সতেজভাব ধরে রাখা বেশ কঠিন কাজ। সানস্ক্রিন বা সান ব্লক ব্যাবহার করুন। হাত, পা, ঘাড়, গলা অর্থাৎ সূর্যের আলো শরীরের যে যে অংশে সরাসরি পড়ার সম্ভাবনা আছে সে সব জায়গায় ঠিকভাবে পর্যাপ্ত সানস্ক্রিন বা সান ব্লক ব্যাবহার করুন।

দিনে অন্তত দুইবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এই গরমে ত্বক বেশি তেল চিটচিটে হয়ে যায়। পরিবেশ শুষ্ক থাকায় বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণও বেশি। তাই ঠিকভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ না ধুয়ে নিলে মুখে ব্রণ হতে পারে

সপ্তাহে দু’দিন ভালো কোনো ফেস ও বডি স্ক্র্যাবার দিয়ে মুখ ও শরীর স্ক্র্যাব করে নিন। এতে শরীরের মরা চামড়া উঠে ত্বক হয়ে উঠবে সজীব, সতেজ।

বাইরে থেকে ফিরে ভালো ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে মুখ ধুয়ে টোনার লাগিয়ে নিন। এরপর সারা মুখে মশ্চারাইজার লাগান। মনে রাখবেন ত্বকের যত্নে ক্লিনজিং, টোনিং, মশ্চারাইজিং খুবই কার্যকরী।

আর ত্বকের যত্নের এইসব ফেসওয়াশ, সানস্ক্রিন, সান ব্লক, ফেস ও বডি স্ক্র্যাবার সবই পাবেন বায়োজিনে। টিপসগুলো মেনে চলুন, সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। আপনার ত্বক থাকবে দীপ্তিময় এবং সুস্থ।

Facebook Comments