মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা

১৪২৫ বিদায় নিলো। অনেক অনেক স্মৃতি, আবেগ, সুখ, দুঃখগাঁথা রেখে গেলো বছরটি। অনেক কিছু পাওয়া- না পাওয়ার বছর ১৪২৫। জয়ের বছর ১৪২৫, সেটা আবার হারানোর বছরও বটে। কতকিছুর কাটাছেড়া, দেনদরবার, অপূর্ণতা, পূর্ণতা, আক্ষেপ রেখে চলে গেলো বছরটি। কিন্তু তাই বলে তো থেমে থাকেনি কোনোকিছুই। থাকবেও না থেমে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম বা খেয়াল। না পাওয়া, পুরোনোকে ফেলে এগিয়ে চলে প্রতিনিয়ত। এই চলে যাওয়াই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। সাহস দেয় মাথা তুলে দাঁড়াবার। শক্তি দেয় সব বাধা-বিপত্তি পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।

শুরু হলো ১৪২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন। বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ। আমরা যেহেতু সাধারণত ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি সেহেতু নববর্ষটা আমরা জানুয়ারির প্রথম দিনেই একবার পালন করি। এখানে কিন্তু একটা বিরাট কিন্তু থেকেই যায়। কিন্তুটা হলো পয়লা বৈশাখ আর নববর্ষ (ইংরেজি) পালনের পার্থক্যটা অনেক। যেটা রীতিমতো চোখে পরে। চারিদিকে উৎসব উৎসব আমেজ, পান্তা-ইলিশ, রংবেরঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, হালখাতা শুধুমাত্র পয়লা বৈশাখেই সম্ভব। এগুলোর কথা বাদ দিলেও শুধুমাত্র পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সবার মনে যে আলোড়ন, ভালো লাগার অনুভূতি আসে সেটা যেকোনো উৎসব-পার্বনের থেকেও আলাদা।

কিন্তু পয়লা বৈশাখের শুরুটা কোথায়? একটু পিছনে তাকানো যাক। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়।

খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

মূলত আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে।

১৯৩৮ সালেও একই কর্মকাণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের আগে ঘটা করে আমাদের দেশে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানট রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এর পুনঃজাগরণ ঘটায়। এভাবেই বাঙালির আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের শুরু হয়।

ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। যার শুরু ১৯৮৯ সাল থেকে। আর ১৯৮৩ সালে রমনা বটমূলে কয়েকজন বাংলা সংস্কৃতিপ্রিয় মানুষ প্রথম পান্তা-ইলিশের সূচনা করেন। তখন পান্তা-ইলিশের সাথে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ দিয়ে করা হয় এই আয়োজন। এভাবেই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের সূচনা হয়, যা আমাদের বাঙালিয়ানার পরিচয় বহন করে। আর এখন তো এ পান্তা-ইলিশ ছাড়া নববর্ষ চিন্তাই করা যায় না।

নতুন বছরের শুরুতে অনেকেই ভাবা শুরু করে দিয়েছেন কিভাবে এই বছরটা কাটাবেন। গত বছরের না পাওয়াগুলো কিভাবে পাওয়া যায় সেই সম্পর্কে ভেবেছেন বিস্তর। যত দুঃখ-গ্লানি, হতাশা দূর করে নিচ্ছেন এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়।

বায়োজিনও এই প্রত্যয়ে বিশ্বাসী। বায়োজিন মনে প্রাণে চায় নতুন বছরে আপনার চাওয়া পাওয়া এবং প্রত্যাশাগুলো যাতে আপনি সম্পূর্ণটাই পান, আপনার জীবনটা যেন আরও সুন্দর হয়ে উঠে। বায়োজিন বিশ্বাস করে নতুন বছরে জীবনকে নতুন রূপে সাজানোর পাশাপাশি আপনি আপনার ত্বকের যত্নেও আরও সচেতন হবেন। সব ধরণের স্কিনের সমস্যা থেকে ভালো থাকুক আপনার ত্বক। নতুন বছরে ত্বকের যত্নটা শুরু করুন নতুনভাবেই।

মুছে যাক সব গ্লানি, ঘুচে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।

জয় হোক সৌন্দর্যের। সবাইকে বর্ষবরণের শুভেচ্ছা। ১৪২৬ সালে রঙিন হোক সবার জীবন।
শুভ নববর্ষ

Facebook Comments