বসন্তে ত্বকের যত্ন

প্রকৃতির পালাবদলে শীতের পর এসেছে বসন্ত। গরম আসি আসি করছে। সামনেই নতুন বছর, হবে বর্ষবরণ। চারিদিকে উৎসব উৎসব রব। এটাই আমাদের সংস্কৃতির অংশ এবং এটা ধ্রুব সত্য। সবাই উৎসবকে কেন্দ্র করে কেনাকাটায় ব্যস্ত। অনেকে এখনই শুরু করে দিয়েছেন উৎসবকে কেন্দ্র করে প্ল্যান প্রোগ্রাম। কি পড়বেন, কোথায় যাবেন, কি কি কেনা বাকি আছে এইসব নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। শুরু হয়েছে ত্বকের যত্নে আলাদা নজর দেয়া। তবে অনেকেই হয়তো জানেননা বসন্ত ও গরমের শুরুতে কিভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন। কারণ, সাধারণত শীতকালে আমাদের যে সমস্যাগুলো দেখা যায়, যেমন শুষ্ক ত্বক ও স্ক্যাল্প, ফাটা গোড়ালি, শুষ্ক ঠোঁট এবং খুশকি, সে সব এই বসন্তেও থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনাদের জন্যই বায়োজিন। প্রকৃতির পালাবদলের এই সময় কিভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন সেই সম্পর্কিত কিছু টিপস এবং পরামর্শ দিচ্ছে বায়োজিন।

চুলে আনুন পুষ্টির দীপ্তি: তাপ ব্যবহার করে চুলে সহজেই নানারকম স্টাইল করা যায়, কিন্তু অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগে মারাত্মক ক্ষতি হয় চুলের। রুক্ষ ও বিবর্ণ চুল সামলাতে সপ্তাহে একদিন নারকেল বা আমন্ড তেলের মাসাজ নিন। টকদই, ডিম, পাকা কলা, মধু ব্যবহার করে ঘরোয়া হেয়ার প্যাকও বানিয়ে নিতে পারেন।

ক্রিমযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করুন: শুষ্ক ত্বকের রূপচর্চার মূল কথাই হল, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। তার জন্য অবশ্যই ফেস ওয়াশ থেকে শুরু করে মেকআপ পর্যন্ত সমস্ত প্রডাক্টই ক্রিমযুক্ত হওয়া উচিত। সাধারণত এই ধরণের প্রডাক্টগুলিতে তেল থাকে, যা ত্বকের উপর আচ্ছাদন তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখে। স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত ত্বক যাঁদের, তাঁরা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজ়ার মাখুন।

নজর দিন ঠোঁটের যত্নে: ঠোঁট ফাটা থাকলে তা আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্যের পথে অন্তরায়। এক চামচ করে মধু, নারকেল তেল আর ব্রাউন সুগার আধ টেবিলচামচ ঈষদুষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটা দিয়ে ঠোঁটে চক্রাকারে মাসাজ করুন। চার-পাঁচবার মাসাজ করার পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ঠোঁটে লাগিয়ে নিন পেট্রোলিয়াম জেলি।

অ্যালোভেরার যত্ন: যাঁদের শুষ্ক ত্বক তাঁরা দিনে দু’বার অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। যাঁদের স্বাভাবিক ত্বক তাঁরাও এটা করতে পারেন।

ভিতর থেকে যত্ন: ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নিলেই চলবে না, যত্ন নিতে হবে ভিতর থেকেও। মাঝে মাঝে হালকা এক্সারসাইজ় করুন, সকালে বা বিকেলে হাঁটতে বেরোন। এক্সারসাইজ় করলে আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং কোষ সজীব থাকবে। প্রচুর পরিমাণে তাজা শাকসবজি এবং কলা, আপেল, পাকা পেঁপে এবং কমলালেবু ইত্যাদি ফল খান। তেলমশলা এবং বাইরের খাবার যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলুন

দরকার পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব ঘটলে তার ছাপ আপনার ত্বকের উপরেও পড়ে। তাই দিনে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমোন। বালিশে কয়েকফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল বা চন্দনতেল ছড়িয়ে দিলে ভালো ঘুম হবে।

খাওয়া-দাওয়া: ত্বকের ও চুলের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য খাবারটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ ভাগই খাওয়ার পুষ্টি এবং মাত্র ২০ ভাগ বাইরের যত্নের ওপর মানুষের সৌন্দর্য নির্ভর করে। তাই খাওয়া-দাওয়ার দিকে বিশেষ যত্নশীল হন। ভিটামিন এ ও ই-সমৃদ্ধ সবজি, ফলমূল খান, এবং পান করুন প্রচুর পানি। দিনে অন্তত ৮-৯ গ্লাস পানি পান করুন। বসন্ত কালে খুব বেশি মৌসুমী ফল পাওয়া যায় না, তাই প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত ফল, সবজি ও সালাদ খান। শাক সবজি, ও ফলমূল খেতে হবে নিয়মিত। এতে ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হবে।

ঘরে তৈরি প্যাক: সারাদিনের ব্যস্ততার পর ত্বকের যত্ন নিতে অনেকের হয়তো নিয়মিত পার্লারে যাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই বাসায় ফিরে মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন ঘরে তৈরি প্যাক-

আমন্ড পেস্ট, টক দই, লেবুর খোসা ও পুদিনাপাতা দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগানো যেতে পারে। এটা অনেক উপযোগী এ সময়ে। তা ছাড়া গাজর ব্লেন্ড, আমন্ড অয়েল এবং মধু পেস্ট করে লাগানো যেতে পারে। এ সময় ত্বকে যে রিঙ্কেলস ভাবটা আসে, সেটা এ প্যাক ব্যবহারে দূর হবে।

শুধু শসার রস কটনে করে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললেও বেশ উপকার পাওয়া যায়। আর যদি হঠাৎ করে হাতের কাছে কিছুই না থাকে তাহলে মুলতানি মাটির সঙ্গে একটু গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।

উপরের টিপস ও পরামর্শগুলো মেনে চললে ত্বকের যত্নে আপনার ত্বককে আপনি দিতে পারবেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

Facebook Comments