ওজন বাড়ার অদ্ভুত ৮ টি কারণ

55622734_664299547346924_7044512896843251712_n

স্বাস্থ্য নিয়ে একটা প্রবাদ বহুল প্রচলিত-‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ প্রবাদটি খুব জনপ্রিয়ও। কিন্তু সুখের মূলটা খুঁজতে গিয়ে স্বাস্থ্যের এমন অবস্থা করে ফেলেন যে যেটা হয়ে যায় বিড়ম্বনার একটা বিষয়। তখন আবার পরতে হয় নানা ঝামেলায়। সচেতন না থাকার কারনে ঝুঁকিপূর্ণ হারে বাড়তে থাকে ওজন, বাড়তে থাকে মেদ। অনেকেই আবার সেটা কমানোর জন্য চেষ্টা করার পরও কোনো কাজই হচ্ছে না।

বছরে একজন মানুষের কম পক্ষে আধা থেকে এক কেজি করে ওজন বাড়ে। যদিও মনে হচ্ছে এই পরিমাণ খুবই কম কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এটা সাড়ে চার থেকে ৯ কেজি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যয়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেকের আবার এসব করা সত্ত্বেও ওজন বেড়ে যায়।

এর কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। গবেষকরা বলছেন, তাড়াহুড়া করে খাবার খেলে ওজন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তাড়াহুড়া করে খায় তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা বেশি। দ্রুত খাবার খেলে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক শরীরকে সংকেত দিতে পারে না। একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকলেও ওজন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন তাদের মধ্যে মোটা হওবার প্রবণতা বাড়ে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের সম্ভাবনা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টেলিভিশন, ইন্টারনের ওজন বাড়ার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। কি, অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা! এমন কথা হয়তো আপনি কখনো শোনেনি। আসলেই তাই। টেলিভিশন দেখতে দেখতে, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে করতে কিংবা নিউজপেপার পড়তে পড়তে অনেকে খাবার খান। গবেষণায় দেখা গেছে এভাবে খাওয়ার অভ্যাসের কারণে সবারই মনযোগ খাওয়ার দিকে থাকে না। ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায়ভ মোটা হওয়ার হার।

বেশিমাত্রায় ফাস্টফুড খেলে ওজন বাড়ে। আবার বেশি পরিমাণে দুধ দিয়ে তৈরি কফিও ওজন বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অনিয়মিতভাবে খাবার খায় তাদের মধ্যে মোটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অনেকেই ওজন কমানোর জন্য খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কিন্তু তারপরও ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না আপনি।

জেনে নিন অদ্ভুত সেই কারণগুলো সম্পর্কে যেগুলো আপনার ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী।

বিষণ্ণতা: বিষণ্ণতা মানুষের ওজন বাড়ায় খুব দ্রুত। প্রথমত বিষণ্ণ থাকলে মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাবার একটু বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকেন। মন খারাপের সময় কতোটুকু খাওয়া হচ্ছে তার হিসাব রাখাটাও বেশ কঠিন। দ্বিতীয়ত যাদের বিষণ্ণতার জন্য ঔষধ খেতে হয় তাদের ক্ষেত্রে ওজন বাড়াটা স্বাভাবিক। কারণ অ্যান্টি-ডিপ্রেশন পিল ওজন বাড়ায়। তাই বিষণ্ণতাকে নিজ উদ্যোগে জীবন থেকে বিদায় জানান। ওজন বাড়বে না।

হরমোনজনিত সমস্যা: শরীরের অন্তঃস্রাবী ব্যবস্থা সঠিকভাবে কর্মক্ষম না হলে ওজন বাড়তে পারে। এরমধ্যে তিনটি প্রচলিত সমস্যা হল হাইপোথাইরোইডিজম, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) এবং কুশিং’স সিনড্রোম। থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরের শক্তি খরচ কমে যায় তবে শক্তি সঞ্চয়ের মাত্রা একই থাকে। ফলে ওজন বাড়ে। পিসিওএস’য়ের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের প্রবাহ দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে ওজন বাড়ে। আর কুশিং’স ডিজিজের ক্ষেত্রে ওজন বাড়ে বাড়তি কর্টিসলের কারণে।

সকালে ব্যায়াম না করা: গবেষণা বলে, সকালে ব্যায়াম করলে বেশি ক্যালোরি খরচ হয় এবং ওজন বাড়া ঠেকায়। খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীর থেকে চর্বিও দূর হয়। তারমানে এই নয় যে সকাল সকাল জিমে ছুটতে হবে। আপনি বাড়িতে ও বাড়ির আশেপাশেই কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। যেমন হাঁটা, জগিং, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা স্কিপিং। সকালে আধা ঘণ্টার ব্যায়ামও অনেক উপকারে আসে।

সকালে নাশতা না করা: অনেকেই ভাবেন, একবেলা খাবার না খেলে ওজন কমবে। এই ধারণাটি খুবই ভুল! সকালের নাশতা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। নাশতা করার সাথে সাথে মেটাবলিজম দ্রুত হয়। এছাড়া সকালে নাশতা না করলে সারাদিনই আপনার ক্লান্তি লাগবে এবং এটাসেটা খেতে ইচ্ছে হবে। ফলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যাবে। এ কারণে সকালে ভরপেট নাস্তা করা উচিত।

ভুল ঔষধ খাওয়া: অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই হুটহাট সামান্য ব্যথা বা জ্বরের জন্য ঔষধ খেয়ে ফেলেন। এই কাজটি অত্যন্ত ভুল একটি কাজ। এতে শরীরে ক্ষতি হয়। এবং এতে করে দেহের ওজনও খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই বাজার থেকে যে কোনো জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল কিনে খান। এতে ওজন বাড়ে। আবার অনেকে হরমোনের ব্যাল্যান্সের জন্য পিল খান, ব্যথা নাশক ঔষধ খান যার সব কটিতেই দেহের ক্ষতি হয় এবং ওজন বাড়ে। তাই ডাক্তারের পরামর্শে আপনার শরীরের অন্য উপযোগী ঔষধ খাবেন।

বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাব: আপনার শরীরে বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাবের কারণেও আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে। ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব হলে আপনার ক্লান্তি বেড়ে যাবে। ফলে মেটাবলিজম কমে যাবে এবং পরিশ্রম করার ইচ্ছা কমে যাবে। ফলে আপনার ক্যালরি কম পুড়বে এবং ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। এনার্জি বাড়ানোর জন্য আপনি বিভিন্ন এনার্জি ড্রিঙ্ক, কোমল পানীয়, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এবং মিষ্টি খাওয়া শুরু করবেন। ফলে আপনার শরীরের মেদ বাড়তে থাকবে।

আপনি নিজেকে নিয়ে যতটুকু সচেতন, বায়োজিন ঠিক ততটুকুই সচেতন আপনাকে নিয়ে। আর এই কারণেই বায়োজিন শুধুমাত্র সমস্যার কথাই বলে না। এর সঠিক সমাধানটাও বলে থাকে। ওজন কমানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে বায়োজিনের সাথেই থাকুন।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *