ইসলামের দৃষ্টিতে রূপচর্চা -পর্ব-২

Title-20

একটা গল্প শোনা যাক। মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে প্রসাধনের ব্যাপারটা অতীত ঐতিহ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে চার্চের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিলো। রানী প্রথম এলিজাবেথের সময় এর বাঁধন ছেঁড়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়। সুগন্ধির প্রতি রানীর এতই দুর্বলতা ছিলো যে, পার্শ্বচরেরা সবসময় গায়ে গন্ধ মেখে ঘুরে বেড়াতো। শোনা যায়, এলিজাবেথ এতই প্রসাধন ব্যবহার করেছিলেন যে, পরবর্তীতে তার ত্বকের অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছিলো- শেষ জীবনে তিনি লজ্জায় কারো সামনে খুব একটা বেরোতেন না।

কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্বের মানুষকে এই সমস্যায় হয়তো পড়তে হয় না! হয়তো-শব্দটা এই কারণেই বলা হলো যে, উত্তরআধুনিকতার এই যুগে এই জাতীয় সমস্যায় এখনও অনেক মানুষ পরে থাকে। কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা একদমই ছিল না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে রূপচর্চা পর্যন্ত সবকিছু এখন বিজ্ঞানসম্মত ভাবে হয়ে থাকে। রূপচর্চা ও ত্বকের যত্নে পরীক্ষায় প্রমাণিত পণ্য ও ডিভাইসের দিকে এখন সবাই ঝুঁকছে। কারণ আগের চেয়ে নিজের যত্নে সবাই এখন অনেক সচেতন।

সারাবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বায়োজিনও ত্বকের যত্নে সবচেয়ে আধুনিক ও ঝুঁকিহীন পথে হাঁটছে। বায়োজিনের পণ্যে যেমন কোনো ঝুঁকি নেই তেমনি ত্বকের চিকিৎসায় যেসব ডিভাইস ব্যবহার করা হয় সেগুলোতে নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এইতো গেলো আধুনিক যুগ এবং বায়োজিনের বিষয়। তবে এত কথার পর একটা কথা আসতেই পারে, ‘প্রাচীনকালে এলিজাবেথ, ক্লিওপেট্রার মতো বিখ্যাত নারীরা রূপচর্চা করতো। কই তারা তো আধুনিক রূপচর্চা পদ্ধতি মেনে চলতো না, আর তাদের সময় এইসব আধুনিক পণ্য ও ডিভাইস তো ছিল না।

তবুও তারা দেখতেও সুন্দর ছিল, সেটা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।’ আপনার এই কথা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই তখনকার সময়ের আবহাওয়া ও পরিবেশ এখনকার মতো এত রূঢ় ছিল না। আর তারা তখনকার সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতেই রূপচর্চাটা করতেন। বায়োজিনের কাজ হচ্ছে আপনার ত্বকের সুরক্ষা করা।

প্রাচীনকালে মানুষ সাধারণ একটা মাপকাঠি মেনে রূপচর্চা করতো। কিন্তু আধুনিক কালে এসে সেটার বিস্তার আরো বেড়েছে। আধুনিককালে ত্বক অনুযায়ী এবং ত্বকের জন্য প্রযোজ্য রূপচর্চা করা হয়। কিন্তু প্রশ্নটা হলো এটা কি শুধুমাত্র আধুনিককালে এসেই শুরু হয়েছে। উত্তরটা হলো না।

ইসলামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ত্বক সুরক্ষা ও যত্নে উপর্যুপরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে রূপচর্চা, পর্ব-১ এ আলোচনা করা হয়েছে। সূর্যকিরণ পরিহার, ত্বকের সুরক্ষায় ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা আগের পর্বে বলা হয়েছে। সূর্য রশ্মির কারণে ত্বকের সমস্যা, বায়ুবাহিত রোগ কেন হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা আমরা জেনেছি আগের পর্বে। এই পর্বে ত্বকের সুরক্ষায় ইসলামের আরো কিছু দিকনির্দেশনার কথা জানবো।

ওযু: ইসলামকে বলা হয় সবচেয়ে আধুনিক এবং পরিপূর্ণ ধর্ম। কথাটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কথাটার সাথে যে মাহাত্ম্য জড়িয়ে আছে সেটা হয়তো আমরা অনুধাবন করি না। ইসলামে সব বিষয়ের উপর একটা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। ওযুর কথাই ধরা যাক। ওযু কিভাবে করতে হবে সেটা মেনেই আমরা ওযু করি। কইবার হাত, নাক, পায়ে পানি দিতে হবে তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ওযুর সাথে যে আপনার ত্বক সুরক্ষার বিষয়টি জড়িয়ে আছে সেটা কি ভেবে দেখেছেন? ত্বক পরিচর্যা ও সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিজের ত্বক পরিষ্কার ও ধুলা-বালি মুক্ত রাখা। ওযু আপনার ত্বক সুরক্ষায় ঠিক এই কাজটি করে। দিনে পাঁচবার ওযু করলে আপনার ত্বক থাকবে পরিষ্কার এবং মুখ থাকবে সুস্থ। কারণ আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় বাইরে যাওয়ার আগে পানি দিয়ে মুখ ধুঁয়ে নিলে ত্বকে দাগ পড়া, ব্রণ হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়।

গোসল: ত্বকের সুরক্ষায় মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ইসলামের একটি বাধ্যতামূলক বিষয়। এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে গোসলের। আবু হুরায়রার বর্ণনা থেকে জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) সাত দিনে একবার গোসল করাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। গোসলের উপকারিতা এবং প্রয়োজনীয়তা ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে আরও শক্ত জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। আধুনিক সময়ের গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত গোসল করলে ত্বকের রোগ হওয়ার হার কমে এবং ত্বক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায় অনেকক্ষেত্রেই।

রূপচর্চার সাথে ত্বকের যত্নের একটা ভালো যোগসাজোস আছে। সেই সাথে আছে ইসলামের দিক নির্দেশনারও। ইসলামের দিক নির্দেশনা মেনে চললে যে কেউ বায়ুবাহিত রোগ এবং চর্ম সংক্রান্ত রোগ থেকে মুক্তি পাবেন সহজেই। বর্তমান যুগের সাথে সেটা পরিপূরক। আর ত্বকের যত্নের সাথে সাথে প্রসাধন এবং স্কিন কেয়ার পণ্যের নামটা চলে আসে আপনাআপনি। প্রসাধনের ব্যাপারে ইউরোপে যেমন নব জাগরণ এনেছিলো ফ্রান্স। তেমনি ত্বকের যত্নে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চললে আপনি আপনার ত্বকে আনতে পারেন নব জোয়ার।

তথ্যসূত্র: Skin Care: Historical and contemporary views (Saudi Pharmaceutical Journal)
By Khalid M.AlGhamdi, Fahad A. AlHomoudi, Huma Khurram

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *