ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন গোলাপজল

Rose water


মানবজাতির ইতিহাস অনেক পুরোনো হলেও সেই তুলনায় রূপচর্চায় ইতিহাস খুব একটা পুরোনো নয়। কিন্তু সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে রূপচর্চায় ধরণ পালটেছে, বিকশিত হয়েছে রুপচর্চার নানান উপায়। একটা দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা পাড়ি দিয়ে রূপচর্চায় তার সবচেয়ে আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে একবিংশ শতাব্দীতে। মানুষের বেশ ভূষার সাথে সাথে যে রূপচর্চার ধরণও পাল্টে যায় সেটা হয়তো বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কেউ ভাবতোই না।

বর্তমান যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে রূপচর্চায়, যেগুলোর আবার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই!!! তবুও একটা কথা সত্য যে প্রাচীন যুগ থেকে রুপচর্চায় যেসব উপকরণ ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেগুলোকে খারিজ করে দিতে পারেনি আধুনিক প্রযুক্তি। বরং সেগুলোর সহায়তায় আরও শক্তিশালী হয়েছে রূপচর্চা। রূপচর্চার তেমনি একটি পুরোনো উপকরণ হলো গোলাপজল।

পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হিসেবে গোলাপজলের ব্যবহার হয়ে আসছে আদি কাল থেকেই। মিসরীয় অঞ্চলে প্রথম গোলাপজলের উৎপত্তি বলে অনেকের ধারণা। চুল ও ত্বকের যত্নে এর কোনো জুড়ি নেই। ত্বকের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান করে থাকে গোলাপ জল।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে গোলাপ জলের কিছু উপকারিতার কথা আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।

ত্বককে দেয় গোলাপি আভা
গোলাপজল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বককে দেয় গোলাপি আভা। একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ বেসন আর তার সাথে গোলাপজল ও লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে গেছে।

ত্বককে সতেজ ও কোমল রাখে
গরমের তীব্রতা আপনার ত্বককে কোমল ও সতেজ রাখতে বাধা সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে আপনি বাইরে বের হবার সময় গোলাপজল নিয়ে যাবেন। কারণ গোলাপজল ত্বককে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও পুষ্টি দান করার সঙ্গে সঙ্গে চেহারাটাও সতেজ রাখে। সারাদিনে সুযোগ পেলেই একবার গোলাপজলে মুখটা ধুয়ে নিতে পারেন।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে গোলাপজল
গোলাপজলে আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রণের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস আর ১ টেবিল চামচ গোলাপজল মিশিয়ে তা পুরো মুখে দিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে ফেলুন। আপনার লোমকূপ পরিষ্কার হবে, মুখের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর হবে এবং ব্রণের সমস্যা কমে যাবে।

ফেসিয়াল ক্লিনজার
যেকোনো ধরনের ত্বকের সাথেই মানিয়ে যায় গোলাপজল। প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ গোলাপজল নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

সানবার্ন দূর করতে
ত্বকে রোদে পোড়া দাগ দূর করতেও গোলাপ জল অনেক উপকারি। ঠান্ডা গোলাপ জল একটি তুলোতে ভিজিয়ে নিয়ে সেটি ত্বকের দাগের উপর ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে এসে ত্বকে গোলাপ জল ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকে সানবার্ন পড়া রোধ করে।

ত্বক পরিষ্কার করতে
কিছু পরিমাণে মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে পেস্ট করে নিন। মেথির পেস্টের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ত্বকে এই প্যাকটি লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গোলাপ জলে অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান রয়েছে যা ত্বক পরিষ্কার করে ব্রণ হবার প্রবণতা হ্রাস করে থাকে।

বয়সের ছাপ দূর করতে গোলাপ জল
গোলাপজল নিয়মিত ব্যবহারে চেহারায় বয়সের ছাপ দরে হবে সহজেই। কারণ এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ-এর গুণ যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখা, চোখের নিচ ফুলে যাওয়া ও বয়সের ছাপের সমস্যাটি এড়াতে বেশ কার্যকরী।

ত্বকের কালো দাগ দূর করতে
আলু কুচি করে পেস্ট করে নিন। এরপর এর সাথে গোলাপ জল মেশান। এবার এটি মুখ এবং ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

ফেশিয়াল টোনার হিসেবে কাজ করে
ফেশিয়াল টোনার হিসেবে কাজ করে গোলাপজল। ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা গোলাপজলে তুলা ভিজিয়ে পুরো মুখে লাগান। গোলাপজল মুখের লোমকূপ বন্ধ করতে সাহায্য করে ব্রণের সমস্যা থাকে না। তাই চাইলে অনেকেই নিয়মিত টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপ জল।



Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *