ইসলামের দৃষ্টিতে রূপচর্চা – পর্ব ১

Title 20

পর্ব-১

রূপচর্চা, একটি অতি পরিচিত শব্দ। মানুষ নিজেকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে কিংবা কখনো আত্মতৃপ্তি লাভে নিজেকে সাজিয়েছে বিভিন্ন ভাবে। যা এক কথায় রূপচর্চাই বলা হয়। যুগ যুগ ধরে মানুষের সৌন্দর্যের একটা বিশাল অংশ বহন করে আসছে রূপচর্চা। আর মানুষও একে লালন পালন করেছে যুগের পর যুগ। একটু পিছনে তাকালেই দেখা যায় অনেক ধাপ পেরিয়ে আজকের এই আধুনিক অবস্থানে এসেছে মানুষের জীবনের এই অবিচ্ছেদ্য অংশটি।

ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখবো আজ থেকে ২০ হাজার বছর আগের ক্রো-ম্যানোরাই এই রূপচর্চা রীতির সর্বজন স্বীকৃত প্রবর্তক। তখন মানুষ নানান রঙে-বর্ণে-অলঙ্কারে নিজেকে সাজিয়ে কল্পিত দেবতাকে সন্তুষ্ট করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভয় থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করতো। তার পর কেটে গেছে অনেককাল। ধ্বংস হয়েছে নানা সভ্যতা। এসেছে নানা ধর্ম।

রূপচর্চা ও ইসলাম একে অন্যের সাথে একসাথে জড়িত। এই সম্পর্ক ইসলাম প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই। ইসলাম ধর্মের ধর্মতাত্ত্বিক জায়গায় ত্বকের যত্ন একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। ইসলাম সবসময় ত্বকের যত্ন চর্চায় জোর দিয়ে এসেছে। বর্তমান চিকিৎসাবিদ্যায় ত্বকের যত্নের যেসব রূপরেখা দেখা হয়েছে তার সাথে ইসলাম ত্বকের যত্নে যেসব কৌশলের কথা বলেছে তা সম্পূর্ণভাবেই এক। ত্বক রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোদ এড়িয়ে চলা, যা মেসতা ও ব্রণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এটা ইসলামে মেনে চলতে বলা হয়েছে দৃঢ়ভাবে।
সূর্যকিরণ পরিহার ও ইসলাম

ত্বকের সুরক্ষায় মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) তার সাহাবীদের সরাসরি উপদেশ দিয়েছেন। সূর্যকিরণ এড়িয়ে চলা হচ্ছে ত্বক রক্ষার একটা উপায়। ময়লা ও জীবাণু থেকে ত্বককে নিরাপদ রাখতে হবে। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) তার সাহাবীদের বলেছেন দীর্ঘক্ষণ সূর্যকিরণ এড়িয়ে চলতে। মহানবীর এক সাহাবী আবু দাউদ তার বই থেকে জানা যায়, ‘একবার আবু হাজিম রোদে বসেছিলেন। যার ফলে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) তাকে ছায়ায় এসে বসাতে আদেশ করেন।’

যদিও স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সূর্যকিরণের উপকারিতা অনেক। তা সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তার জন্য উপযুক্ত কাপড় পড়া জরুরি। বোরখা ও পাঞ্জাবির ব্যবহার এমনি এমনি আসে নি। এটা সূর্যের ক্ষতিকারক আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এই রশ্মি ত্বক ক্যান্সারের কারণ।

ইসলামের সবেচেয়ে অপরিহার্য অংশ হচ্ছে পরিষ্কার থাকা। পরিষ্কার থাকা মানুষ অনেক রোগবালাই থেকে রক্ষা পায় আপনাআপনি। এর নির্দেশ স্বয়ং কোরানেই আছে। পবিত্র কোরান শরীফে বলা হয়েছে, ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’

ত্বকের সুরক্ষা এবং ইসলাম
ত্বকের রোগ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চারিদিকে ছড়ায়। এই রোগ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি মসজিদে কফ বা থুতু ফেলে, অন্য কারো গায়ে বা কাপড়ে লাগলে তার উচিত সেটা মুছে ফেলা।’

কফের জীবাণু থেকে বাতাসের মাধ্যমে অন্য যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। হতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, খুসখুসে কাশির মতো রোগ। শুধুমাত্র কি ধরণের রোগ হতে পারে সেটাই ইসলামে বলা হয়নি। বরং এর প্রতিকার কিভাবে সম্ভব সেটারও স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে ইসলামে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক পরিবেশের যেসব উপাদানের কথা বলা হয়েছে সেটা ইসলাম বলেছে তার জন্মলগ্ন থেকেই। ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক সূর্যের আলোর কথা তখনি আলোচনায় ছিল। ত্বকের যত্ন ও সুরক্ষায় যেসব বিষয় ইসলামে বলা হয়েছে আধুনিক যুগে এসে সেটা আরো শক্তিশালী হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, শুরু থেকেই ইসলাম ও ত্বকের যত্ন একে ওপরের পরিপূরক হিসেবেই কাজ করেছে। (চলবে)

তথ্যসূত্র: Skin Care: Historical and contemporary views (Saudi Pharmaceutical Journal)

By Khalid M.AlGhamdi, Fahad A. AlHomoudi, Huma Khurram

One thought on “ইসলামের দৃষ্টিতে রূপচর্চা – পর্ব ১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *