ইউ আর দ্যা মিরর (You are the Mirror)

বাংলাদেশ আধুনিক হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই 4জি যুগে প্রবেশ করেছি। এর সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিক হচ্ছে মানুষ, চারপাশের পরিবেশ। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিচ্ছে আমাদের দেশ, একথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করা যায়। এত কিছুর পরও নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিতে পারিনি। এক্ষেত্রে আমরা বেশ উদাসীন।

একটা কথা আমাদের দেশে খুব প্রচলিত, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই কথাটি যুগ যুগ ধরে চলে আসা সত্ত্বেও এই আধুনিকতার যুগে যা খুব প্রাসঙ্গিক। কিন্তু আসল কথাটা হচ্ছে চুল তো বাঁধে সবাই, কিন্তু বাঁধার মতো বাঁধা কয়জন বাঁধে (ভাবার্থ নাই বা চিন্তা করলেন)। উত্তরটা পানির মতো পরিষ্কার। কেউ না!!! উত্তরটা কিন্তু উল্টো হওয়াটাই বেশ যুক্তিযুক্ত ছিল। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, এমনকি কাপড়-চোপড়েও আধুনিকতার ছোঁয়া। কিন্তু সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যেই জিনিস নিজেদের ‘লুক’, সেটার যত্নে আমরা কতটা আধুনিক হয়েছি। অথবা সহজ বাংলায়- আমরা কি নিজেদের লুক নিয়ে আসলেই আন্তরিক??? একদম না।

এখন কথা আসতে পারে উত্তর আধুনিকতার যুগে ‘ফেস ভ্যালু’ বা ‘লুক’ আসলে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। আসলেও তাই। আমরা সাদা বা কালো এই বিষয় নিয়ে কথাও বলছিনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হলো- বর্ণ সৌন্দর্যের পরিচায়ক না। আপনার যে স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও লাবণ্য আছে সেটাই আপনার পরিচয় বহন করে। আমরা বলছি তার পরিচর্যায় আপনি কতটা আন্তরিক। উত্তরটা কারোই জানা নেই কারণ আপনি এই বিষয়টাকে একদমই গুরুত্ব দেননি।

প্রথমে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী-কথাটা এমনি এমনি আসেনি। এর পিছনের গূঢ় অর্থটাও সবার জানা। প্রথমত, আপনি অন্যের মনে কিরকম ছাপ ফেলছেন সেটা আপনার দর্শনের উপর নির্ভর করে অনেকটাই। পরে আসে গুণ এর বিষয়। মুখে স্বীকার না করলেও সবাই চায় অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে। এটা হিউম্যান সাইকোলজি। নিজের যত্নে মনোযোগী হলে সেটা খুব সহজেই আপনি অর্জন করতে পারবেন। আপনার নিজের সৌন্দর্যটা নিজেকে পরিচর্যার মাধ্যমে আরও বাড়িয়ে তুলতে হবে। আপনি জানেন আপনি সুন্দর এবং আপনাকে সেটা বিশ্বাস করতে হবে। তবেই অন্যরা বিশ্বাস করবে। আপনার চোখ, নাক, ঠোঁট অন্য যেকারো চেয়ে আলাদা এবং তার উপযুক্ত পরিচর্যা করতে হবে। আপনাকে একটা কথা মন থেকে বিশ্বাস করতে হবে, সবার কাছে আপনি একটি আয়না’র মতো। নিজেকে যেভাবে আয়নার সামনে উপস্থাপন করবেন আয়নাটা ঠিক তাই দেখাবে। আপনি সবার অবচেতন মনে কোনো দাগ ফেলতে পারছেন কিনা সেটা তাদের অভিব্যক্তি দেখেই বুঝতে পারবেন। আপনি নিজেকে নিয়ে যা ভাবছেন এবং যা দেখছেন আয়নাটা বাকিদের কাছে ঠিক সেই প্রতিবিম্বটাই উপস্থাপন করবে। সেক্ষেত্রে আপনার সেলফ বিলিভ খুব জরুরি। তাই বলে এটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই যে আপনাকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে বলছি। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার, নিজের যত্ন নিন। অযত্ন আর অবহেলায় নিজের লাবণ্যতা নষ্ট করবেন না।

বিশ্বজুড়ে একটা কথা প্রচলিত আছে, মানুষ যদি প্রকৃতির কাছে হুমকি হয়ে যায় তখন প্রকৃতি টিকে থাকার জন্য ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটিয়ে নিজেই পদক্ষেপ নেয়। মানবদেহের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। নিজ ত্বকের পরিচর্যা শুরু করুন। কারণ ত্বকের যত্ন না নিলে ত্বকও আপনার থেকে ফাঁকি দিবে একদিন, আর সেটা হবে শুভঙ্করের ফাঁকির চেয়েও ভয়ানক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *