চুল পড়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার

সুস্থ,সুন্দর ও ঝলমলে চুল প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন । কিন্তু বর্তমান সময়ে চুল পড়া এক ভয়ংকর সমস্যা হয়ে দারিয়েছে ।  বিউটি এক্সপার্টদের মতে প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। এর বেশি হলেই সেটি চুল ঝরে পড়া সমস্যা বলে চিহ্নিত হবে।বেশ কিছু কারণে চুল ঝরতে পারে-
  • পুষ্টির অভাব বা রক্তস্বল্পতার কারণে চুল পড়ে যেতে পারে।
  • চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ বংশগত।
  • হরমোনের কমবেশি হওয়ার কারণে চুল উঠে যেতে পারে।
  • কোনো কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়তে পারে ।
  • মানসিক সমস্যা থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়তে পারে।
  • ভেজা চুল আচড়ালে চুল পড়ে যায় ।
  • শরীরের পুষ্টির ওপর চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে।
  • খুশকি হলো চুল পড়ার অন্যতম কারণ।
  • চুলের স্টাইল করতে রিবন্ডিং করলে চুল পড়ে যায় ইত্যাদি ।
চুল পড়া প্রতিরোধ আমরা ২ টি পদ্ধতির মাধ্যমে করতে পারি । প্রাকৃতিক উপায়ে এবং চিকিৎসা মাধ্যমে ।
চিকিৎসাঃ
চিকিতসার মাধ্যমে দ্রুত চুল পড়া রোধ হয় তাই অনেকেই চিকিৎসাকেই বেছে নিয়েছে চুল পড়া রোধের মাধ্যম হিসেবে । তবে অনেকেই চিকিৎসা করতে চেয়েও করতে পারে না কারণ অনেকেই জানে না কোথায় এবং কি চিকিৎসা উন্নতমানের এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছারাই এই সমস্যা সমাধান করা যাবে । চুল পড়া রোধ , নতুন চুল গজানো , চুল মজবুত ও বড় করার উন্নতমানের চিকিৎসা EPN . EPN Treatment এ micro needling এর মাধ্যমে কার্যকরী পুষ্টি উপাদান স্ক্যাল্প এ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয় । এতে দুর্বল চুল গুলো মজবুত হয় এবং বড় হয় ।
EPN করার পর করনীয়ঃ
• ইপিএন ট্রিটমেন্ট করার সময় যেহেতু সলুস্যন ব্যবহার করা হয় সেহেতু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি লাগানো যাবে না । ২৪ ঘণ্টা আগে পানি লাগালে সলুস্যন এর কার্যক্ষমতা কমে যাবে , তাই ভালো ও সঠিক ফলাফলের জন্য ২৪ ঘণ্টার আগে পানি লাগাবেন না ।
চুল বেশি পড়লে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না এর জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে । শ্যাম্পু কিনার সময় দেখে নিতে হবে যে স্যাম্পু ব্যবহার করছেন তাতে কি কি উপাদান আছে । এক্ষেত্রে আপনি Coconut oil shampoo or Anti Hair Loss Shampoo ব্যবহার করতে পারেন ।
Low-Level Laser Therapy র মাধ্যমেও চুল পড়া রোধ করা সম্ভব । এই ডিভাইস আপনি চাইলে বাসায় ও নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন । এই দিভাইস্তির মাদ্ধ্যমে দেওয়া  Low-Level Laser Therapy  hair follicle একটিভ করে এতে চুল পড়ে জাউয়া রোধ হয় এবং নতুন চুল গাজায় ।
ঘরোয়া পদ্ধতিঃ
  • একটা ডিম নিয়ে তাতে ২ চামচ মধু ও অল্প দই মিশিয়ে নিন ভালো করে। এরপর মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে  শুকনো পর্যন্ত। ৩০ মিনিট ধরে নিন শুকোতে সময় লাগবে।সপ্তাহে একবার করে করতে পারেন।
  • হালকা গ্রীনটি সারা মাথায় লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক বসে থাকুন। চুল শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। গ্রীনটিতে অ্যাণ্টি অক্সসিডেণ্ট থাকে। অ্যাণ্টি অক্সসিডেণ্ট চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করুন।
  • আলু চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। কি ভাবছেন মজা করছি! না তাহলে ভুল ভাবছেন। সত্যি আলু চুলের জন্য ভীষণ উপকারি।
  • নারকেলের দুধ চুলের ভেতর থেকে চুলকে মজবুত করতে সহায়তা করে। চুলের সঠিক ন্যারিশমেন্টের জন্য নারকেল দুধের বিকল্প নেই। এছাড়াও নারকেলের দুধ ডিপ কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।
এছাড়াও কিছু জিনিস সব সময় মেনে চলতে হবে- ভেজা চুলে কখনো চুল আঁচড়ানো যাবে না এবং চুল ভেজা অবস্থায় বাধা যাবে না । খুব প্রয়োজন না হলে চুলে আয়রন করা যাবে না ।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *