ব্রণ কি ? ব্রণ হবার কারণ ও চিকিৎসা

ব্রণের ইংরেজি নাম পিম্পল/ একনি । কোনো কারণে Sabaceous গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণের বাধার সৃষ্টি হয় এবং তা ভেতরে জমে ফুলে উঠে যা ব্রণ (acne) নামে পরিচিত।

ব্রণের সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগি।সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সে ব্রণ বেশি হয়।মুখ, গলা, বুকে ও পিঠের উপরিভাগ আর হাতের উপরিভাগে এই রোগটা হয়। ব্রণ অনেক ধরনের এবং অনেক কারনে হয় ।

ব্রণের প্রকারভেদঃ

    • ট্রপিক্যাল একনি অতিরিক্ত গরম এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে পিঠে, উরুতে ব্রণ হয়ে থাকে
    • প্রিমিন্সট্রয়াল একনি_ কোনো কোনো মহিলার মাসিকের সাপ্তাহ খানেক আগে ৫-১০টির মতো ব্রণ মুখে দেখা দেয়
    • একনি কসমেটিকা_ কোনো কোনো প্রসাধনী লাগাতার ব্যবহারে মুখে অল্প পরিমাণে ব্রণ হয়ে থাকে
    • একনি ডিটারজিনেকস_ মুখ অতিরিক্ত ভাবে সাবান দিয়ে ধুলেও (দৈনিক ১-২ বারের বেশি) ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়
    • স্টেরয়েড একনি_ স্টেরয়েড ওষুধ সেবনে হঠাৎ করে ব্রণ দেখা দেয়। ওষুধ একাধারে অনেকদিন ব্যবহারে ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়

ব্রণ হবার কারণঃ

      • তৈলাক্ত ত্বক যাদের তাদের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিমাণ ব্রণ হয়
      • জন্মনিন্ত্রক ওষুধ খেলে অনেক সময় ব্রণ হয়
      • অনেকের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকে, সেক্ষেত্রেও ব্রণ হতে পারে
      • তৈলাক্ত খাবার বেশি খেলে ব্রণ হয়
      • চকলেট এবং সারাক্ষণ বাদাম খেলে ব্রণ হয়
      • মানসিক চাপের ফলে ব্রণ হয়ে থাকে
      • অপরিষ্কার থাকলে ব্রণ হয়ে থাকে
      • পানি কম খেলে ব্রণ হয়
      • অতিরিক্ত মেকাপ করলে ব্রণ হয়
      • বাইরে থেকে আসার পর ভাল ভাবে মুখ পরিষ্কার না করলে ব্রণ হয়ে থাকে

প্রতিকার

অভ্যাস গত পরিবর্তনঃ

      • কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের ফলে ত্বক থেকে ব্রণের দূর করা সম্ভব
      • বাইরে থেকে এসে ভাল করে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে । ব্রণ যুক্ত ত্বকে যে কোন Cleanser ব্যবহার করা ঠিক না এর জন্য Acne Cleanser ব্যবহার করতে হবে
      • মুখে যে কোন কসমেটিক অথবা ক্রিম ব্যবহার করা ঠিক না । মুখে ব্রণ থাকলে অবশ্যই Acne Cream ব্যবহার করতে হবে
      • বেশি বেশি পানি খেতে হবে
      • ব্রণযুক্ত যায়গায় হাত লাগানো যাবে না
      • তৈলাক্ত খাবার ও চকলেট কম খেতে হবে
      • অতিরিক্ত মেকাপ করা যাবে না । তবে কোন কারনে মেকাপ করলে তা বাইরে থেকে এসে Toner দিয়ে পরিষ্কার করে ঘুমাতে হবে

ত্বকের বাড়তি যত্নঃ

      • গোলাপজলের নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ কমে যায়। দারুচিনি গুঁড়ার সাথে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ব্রণের ওপর লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রণের সংক্রমণ, চুলকানি এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।
      • রাতে শোয়ার আগে ডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় ম্যাসেজ করে সারারাত রাখতে পারেন। এটি আপনার ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এর সাথে লেবুর রস যোগ করা যায়। আপনি এটি আধ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে পারেন।
      • সাধারণত ত্বক তৈলাক্ত থাকার ফলে ব্রন হয় । শশার রস তৈলাক্ততা দূর করতে খুবই কার্যকর। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে শশার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন।

চিকিৎসাঃ

Light Based Treatments :  ডক্টর লাইট একটি এডভান্সড স্কিন কেয়ার ডিভাইস যার মাধ্যমে ব্রন , অয়েলি স্কিনের চিকিৎসা করা হয় । ডক্টর লাইট এ তিনটি Wavelength লাইটের মাধ্যমে কাজ করে । ব্ল লাইট, রেড লাইট ও ইনফারেট লাইট । ব্ল লাইট ব্রনের ব্যাকটেরিয়া কে ধ্বংস করে , ত্বকের ওয়েল নিয়ন্ত্রণ করে ত্বক কে ব্রন মুক্ত করে । রেড লাইট স্কিন সেল রিজেনারেট করে , ত্বক কে রিজুভুনেট করে পোর সাইজ কমিয়ে লং লাস্টিং এন্টি এজিং ইফেক্ট দেয় এবং ইনফারেট এনার্জি কোলাজেন প্রোটিন স্টিমুলেট করে ।

একনি গো ডিভাইস : একনি গো ডিভাইস  ছোট পেন এর মত । এই ডিভাইসটি দুটো লাইট এর মাধ্যমে কাজ করে ব্ল লাইট ও রেড লাইট । এর ব্ল লাইট একনি দূর করবে এবং রেড লাইট একনির দাগ ও ক্ষত দূর করবে । আপনার একনির উপরে লাইট মাত্র দুই মিনিট ধরে রাখতে হবে ।

Topical Products : ব্রণ যুক্ত ত্বকে যে কোন ক্রিম বা ফেসওয়াস ব্যবহার করা যাবে না । অবশ্যই Acne Cream বা Acne Cleanser ব্যবহার করতে হবে । এই সব Cream এবং Cleanser এমন সব উপাদান আছে যা ব্রণের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং পরবর্তীতে ব্রণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে ।

Retinol serum : Ratinol সিরামের প্রাকৃতিক উপাদান এবং ভিটামিন ই ত্বকের তৈল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্রণ এর ট্রিটমেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই সেরাম এর ভিটামিন E থাকে যা ত্বকের পুষ্টি যোগায়।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *