ত্বকের রং ফর্সা করার উপায়

গায়ের রঙটা একটু ফর্সা করতে আমাদের সকলেরই যেন চেষ্টার কমতি নেই। আর কেনই বা হবে না? প্রতিদিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ।

আসলে সত্যটা হলো বেশিরভাগ মানুষই নিজের শরীরের রং নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু সন্তুষ্ট না থেকেও কি উপায় আছে? গায়ের রং ফর্সা না কালো হবে এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যার জন্য মেলানিন দায়ী। তবুও ত্বকের রং-টা একটু ফর্সা করতে আমরা সবাই চাই। কিন্তু আদৌ কি কোনো উপায় আছে? আছে। প্রকৃতি যেমন সবকিছু নির্ধারণ করে দেয়, তেমনি নির্ধারণ করে দেয় সমস্যা সমাধানের উপায়। আর ত্বকের রং ফর্সা করার উপায়গুলোর মধ্যে একটি উপায় হচ্ছে হচ্ছে ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করা।

বেশি ফাইবার, মিনারেল, ভিটামিন এবং পরিমাণমতো ফ্যাট ও প্রোটিনযুক্ত খাবার অনায়াসেই ত্বকের রং কয়েক শেড উন্নত করে তোলে। আর এজন্য প্রতিদিনের খাবারে বেশি করে ফল এবং সবজি রাখুন। সবজির মধ্যে পালং শাক, টমেটো, বরবটি, মিষ্টি আলু এবং করলা আমাদের রং ফর্সা করতে বেশ অবদান রাখে। কারণ এতে লাইকোপিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ডেইরি প্রডাক্টের মধ্যে দুধ, চিজ়, টক দই, আর প্রোটিনের মধ্যে ডিম, মাছ, মাংস খেতে হবে নিয়মিত। আপেল, কমলা, কলা, পেঁপে, আঙুর, স্ট্রবেরি, আম, বরই আর তরমুজ মানে ফলের ঝুড়িতে রাখা সবক’টা ফলই ত্বকের জন্য উপকারী। কারণ ফল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল পায় আমাদের ত্বক।

অনেক সময় আমরা সবজি-ফলের পরিবর্তে জাঙ্ক ফুড (ফাস্ট ফুড) খেতে বেশি পছন্দ করি। কিন্তু ত্বক ভালো রাখতে চাইলে এই অভ্যাস থেকে পিছু হাটতে হবে। তবে ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। ডার্ক চকলেক আমাদের ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে। সেই সঙ্গে রোদে পোড়া ত্বকের ড্যামেজ সারাতেও সাহায্য করে। আসুন এবার ত্বকের রং ফর্সা করার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির কথা জানি-

১. তেঁতুলের পাল্প ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২দিন এর ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

২. লেবু ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে মিশ্রণটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। মিনিট ১৫ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন এর ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

৩. মুসুর ডাল বেশ কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভেজা মুসুর ডাল বেটে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

৪. ত্বকের রং ফর্সা করার জন্য টক দই লাগান মুখে। যাদের ত্বক শুষ্ক তাঁরা মধু ও দই মিশিয়ে নিন। মিনিট বিশেক রাখুন মুখে, তারপরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এরকম লাগাতে হবে।

ডাবের পানি: ডাব বা নারকেলের পানি ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। ত্বকের জেল্লা ফেরাতে, কালো ছোপ দূর করতে এর জুড়ি নেই।

গোলাপ জল: গোলাপ জল মিশিয়ে গোসল করুন। তাতে অনেকটা লেবুর রসও মিশিয়ে দিন। লেবু ব্লিচের কাজ করবে ও গোলাপ জল গোসলের পরে জেল্লা ফিরিয়ে আনবে।

জিরা: গোসলের পানিতে জিরা ভিজিয়ে রেখে তা ব্যবহার করুন। এটির ব্যবহারে দ্রুত ত্বকের জেল্লা না ফিরলেও দারুণ কাজ দেবে। জিরা বেঁটে নিয়ে তাতে দুধ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করেও লাগাতে পারেন। ত্বকের রঙ ফেরাতে দারুণ কাজ দেবে।

ডিমের কুসুম: ডিমের সাদা অংশের পাশাপাশি কুসুমও ত্বকের জন্য উপকারী। কুসুম ফেটিয়ে তা ত্বকে মাখতে পারেন। তবে তা তোলার সময়ে ভিনিগার ব্যবহার করবেন। তাতে গন্ধ চলে যাবে আর আপনি জেল্লাদার ত্বক পাবেন।

টমেটো: অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ টমেটো দাগমুক্ত ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা, উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে টমেটোতে। এত গুনের কারনে টমেটোকে বলা হয়ে থাকে ‘স্বর্গের ফল’।

কুমড়া: কুমড়াতে আছে প্রচুর পরিমাণ বেটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি যা ত্বককে মোলায়েম ও তারুণ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

রসুন: রসুন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেহ ও থেকে টক্সিন নিঃসরিত করে দেহ ও ত্বক কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

গাজর: ফর্সা কোমল ত্বকের গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে গাজরের মাঝে। এর হলুদ রং ও ভিটামিন সি ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বকে উজ্জ্বল কোমল করে তোলে। তাই সবজি খেয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় আছে গাজরেই।

বেদানা: বেদানাতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিজেন যা ত্বকের ভেতর রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় যা ত্বকে নরম ও কোমল করে এবং ত্বক কুঁচকানো রোধ করে। বেদানার রস কে ‘অ্যান্টি-অক্সিজেন’ ক্রিম বলা হয়।

লেটুস পাতা: অ্যান্টি-অক্সিজেন, পটাসিয়াম, ক্যারোটিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ লেটুস পাতা দৈনন্দিন সালাদ এ ব্যাবহার করলে ত্বকের দূষিত টক্সিন শরীর থেকে নিঃসরিত হয় এবং আপনার দেহ ও ত্বককে রাখে সুস্থ।

এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত মেনে চললে আপনার ত্বকের রং হবে আরও ফর্সা ও উজ্জ্বল। এছাড়া ত্বকের রঙের নাটকীয় পরিবর্তনের জন্য ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি বায়োজিনের হোয়াইটেনিং প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া বায়ো-হাইড্রা ফেসিয়াল ট্রিটমেন্টটি আপনার ত্বক আরও ফর্সা ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। বায়োজিন চায় আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে। ভালো থাকুন আপনি, ভালো থাকুক আপনার ত্বক।

Facebook Comments