ব্ল্যাকহেডকে বলুন বিদায়

আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের মুখ নিয়ে সচেতন থাকি। মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত মুখের ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অনেকসময় দেখা যায় মুখে যত্ন নেয়া হলেও সৌন্দর্য্যে দেখা দেয় নানা সমস্যা। মুখের সৌন্দর্যের একটি বড় সমস্যা হল ব্ল্যাকহেডের সমস্যা। মূলত বিভিন্ন ধরনের ময়লা, তেল আর মেদ থেকে ক্ষরিত রসের সমন্বয়ে এক ধরনের কালো দাগ গড়ে তোলে নাকের পাশে, ঠোঁটের নিচে, থুতনিতে এবং কপালে। আর এটি শক্ত হয়ে ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করে ফেলে। এগুলোই ব্ল্যাকহেড নামে বিশেষ পরিচিত

আমাদের স্কিনের পোরস-গুলোতে প্রতিনিয়তই ময়লা জমে। এই ময়লা ঠিক মতো পরিষ্কার করা না হলে এর উপর আরও বেশি তেল ময়লা জমতে থাকে। এক সময় তা বাতাসের সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইযড হয়ে ব্ল্যাকহেডস এর রূপ নেয়। শুরু থেকে সচেতন না হলে এটি এক রকম স্থায়ীই হয়ে বসে যায়, অপরিচ্ছন্ন করে তোলে আপনার স্কিন। সাধারণত আমাদের টি জোনে (কপাল ও নাকে) তেল্গ্রন্থি গুলো মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি সক্রিয় থাকে। তেল নিঃসরণ বেশি হওয়ায় ধুলোবালি জমে ব্ল্যাকহেডস হয়ে যায়। স্কিন তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়, হয়ে পড়ে অমসৃণ।

গরমে ঘামে আমাদের ত্বকের কোষগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রসারিত হয়ে যায়। এর ভেতর ধুলাবালু ঢুকে প্রথমে সাদা শাল বা হোয়াইটহেডসে পরিণত হয়। এগুলো পরে ব্ল্যাকহেডসে রূপান্তরিত হয়। যদি শুরু থেকেই সাদা শালগুলোকে দূর করা যায়, তবে ব্ল্যাকহেডস হওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। ঘরে বসেই ব্ল্যাকহেডস দূর করতে কিছু পরামর্শ রইল-

লেবুর রস: লেবুর রস ব্রন দূর করতে এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে। লেবুর রস প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্য সমান উপকারী। লেবুর রসের সঙ্গে লবণ, দই এবং মধু মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করা যেতে পারে। এটি এক্সফলিয়েটর হিসেবে কাজ করবে। লেবুর রসের সঙ্গে দুধ বা গোলাপজল মিশিয়ে ফেইশল ক্লিনার তৈরি করা যায়। ১০ থেকে ১২ দিন টানা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়।

বেকিং সোডা: মুখে ময়লা জমেও ব্ল্যাক হেডস হতে পারে। বেকিং সোডা ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল-চামচ বেকিং সোডা পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। ত্বকের যেখানে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা আছে সেখানে এই পেস্ট লাগিয়ে হালকা হাতে মাসাজ করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দু্ই থেকে তিনদিন এটি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

গ্রিন টি: এক টেবিল-চামচ শুকনা গ্রিন টি’র পাতা সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা আছে যেখানে, সেখানে এই মিশ্রণ দিয়ে তিন মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এই পেস্ট ত্বক পরিষ্কার করে, ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে। হালকা গরম পানি দিয়ে এরপর মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি: ব্ল্যাক হেডস দূর করে এবং পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা কমায় দারুচিনি। মধুর সঙ্গে ১ চা-চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ঘুমাতে হবে। সকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। টানা ১০ দিন ব্যবহারেই ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তাছাড়া এক চিমটি হলুদের সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়া লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

মধু: মধু ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে। ত্বককে টানটান রাখে এবং ব্ল্যাক হেডস দূর করে। পুরো মুখে খানিকটা মধু লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

হলুদ:পুদিনা পাতার রসের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে পেস্টটি লাগিয়ে রাখতে হবে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাছাড়া লাল চন্দনের সঙ্গে হলুদ এবং দুধ মিশিয়ে এককটি ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর হালকা শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই ত্বক পরিষ্কার হয়ে যাবে।

টিপস: ব্ল্যাকহেড এবং হোয়াইটহেড একই জিনিস। এটা ত্বক বুঝে কালো এবং সাদা হয়। ব্ল্যাকহেডই বেশির ভাগ মানুষের হয় এবং চোখে পড়ে বেশি। তবে দুটোই দূর করার নিয়মাবলি এক। নিয়ম করে অন্তত ১৫ দিনে একবার মুখে স্ক্রাব করুন। কারণ নিয়ম করে ত্বকের মরা চামড়া দূর না করলে ব্ল্যাকহেড তাড়াতাড়ি হয়। পিল-অফ ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে রেডিমেট পিল-অফ পাওয়া যায়। ঝামেলা কম ব্যবহারেও সুবিধা।
যদি ব্ল্যাকহেড ছোট বা কম হয় তাহলে স্ক্রাব করার পর চাপ দিয়ে বের করার দরকার নেই। ওগুলো এমনিতেই চলে যাবে। স্ক্রাব যখন করবেন তখন অবশ্যই চোখের এরিয়া বাদ দিয়ে করবেন।

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে বালিশের কাভার পাল্টে ফেলুন। কারণ আমাদের মাথা ও মুখ থেকে সবচাইতে বেশি ডেড-সেল বালিশে জমা হয়। নিয়ম করে বালিশের কাভার পরিষ্কার না করলে এগুলো আবার আমাদের ত্বকেই ফেরত এসে ব্রণ, ব্ল্যাকহেড তৈরি করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও পুষ্টিকর খাবার খান।

এই পদ্ধতিগুলো মেনে চললে আপনি সহজেই পাবেন ব্ল্যাকহেড থেকে মুক্তি। তবে সবগুলো নয়, যে কোনও একটা বা দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করুন না কেন, টানা ১০ থেকে ১২দিন ব্যবহার করুন বা ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান। এছাড়া ব্যবহার করতে পারেন বায়োজিনের পণ্য Larel Face Scrub With Silk Extract.অথবা ক্লিনিকে এসে নিতে পারেন রিভিট মাইক্রোডার্মাব্রেসান ট্রিটমেন্ট আপনার ত্বকের সব ধরণের সমস্যা সমাধানে বায়োজিন আছে আপনার পাশে।

Facebook Comments