বিনা ঔষধে ব্রণের স্থায়ী চিকিৎসা

ব্রন ত্বকের একটি বিরক্তিকর সমস্যা। প্রায় সবাই জীবনে একবার হলেও ব্রণের সমস্যায় পড়েছেন । আসুন, আজ আমরা ব্রণের কিছু বিষয় জেনে নিই এবং দেখি, কিভাবে ব্রণের স্থায়ী সমাধান পাওয়া যেতে পারে ।

ব্রণ কিভাবে হয় ?

আমাদের ত্বকের লমকূপের মাঝে কিছু ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, এই ছিদ্র গুলোকে Pores বলে ।
বিভিন্ন কারনে(অতিরিক্ত তৈল, ময়লা, মৃত কোষ বা ব্যাকটেরিয়া) ত্বকের এই ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ত্বকে ব্রণ দেখা দিতে পারে ।
ব্রণ ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা এবং যে কারো যে কোন বয়সে ব্রণ দেখা দিতে পারে । যদিও এই ব্রণের কারনে স্বাস্থ্য ঝুকি থাকে না, তথাপি ইহা খুবই বিরক্তিকর এবং ত্বকের স্বাভাবিক সোন্দর্য নষ্ট করে দেয় । এতে হতাশা তৈরি করে এবং কখনো কখনো মানুষের ব্যাক্তিত্বও নষ্ট করে এবং দীর্ঘদিন ব্রণ ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে ।তাই দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রণের চিকিৎসা করা জরুরী যাতে ব্রণ ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি করতে না পারে ।

ব্রণের লক্ষণ

ব্রণ ত্বকের যে কোন অংশে হতে পারে । ইহা সাধারনত মুখে, ঘাড়ে, পিঠে, বুকে ইত্যাদি স্থানে দেখা দিতে পারে ।
আপনার ত্বকে ব্রণ ওঠার পর আপনার ত্বকে সাদা বা কালো রঙের কিছু দানাদার দেখা যায়, ইহা Black Head ও White Head নামে পরিচিত । Black Head ত্বকের বাহিরে এসে অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে কালো রং ধারণ করে। আর White Head ত্বকের অভ্যন্তরে থাকে এবং সাদা বর্ণের হয়ে থাকে ।

যদিও Black Head বা White Head ত্বকের অন্যতম প্রধান ব্রণ, ত্বকে অন্য ধরণের ব্রণ ও দেখা দিতে পারে । এই ব্রণ গুলো ত্বকের কোষকে জ্বালিয়ে দেয়, ফলে ত্বকে গর্ত তৈরি হয় । নিন্মে কিছু ব্রণের বর্ণনা দেয়া হল ।

১। Papules: এই গুলো আকারে ছোট, এগুলো মূলত ঝলসে যাওয়া লোম কুপ থেকে তৈরি হয় ।
২। Pustules: এই গুলো আকারে ছোট, ইহার মুখে সাদা রঙের পুঁজ দেখা দেয় । ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই ধরণের ব্রণ হতে পারে ।
৩। Noudules: এই ধরণের ব্রণ শক্ত, বেদনাদায়ক এবং এই গুলো ত্বকের বাহিরে এসে ফুলে উঠে ।
৪। Cysts: এই ধরণের ব্রণ ত্বকের অভ্যন্তরে থাকে, পুঁজ হয় এবং খুবই ব্যাথা তৈরি করে ।

ত্বকে ব্রণ হবার কারন সমূহ

ত্বকে বিভিন্ন কারনে ব্রণ দেখা দিতে পারে । আমাদের ত্বকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা মূলত লোমকুপের সাথে ত্বকের উপরি অংশে খোলা থাকে । যখন ত্বকের এই ছিদ্র গুলো বন্ধ ত্বকের অতিরিক্ত তৈল বা ময়লা দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া জন্ম হয়, তখন ত্বকে ব্রণ দেখা দেয় ।

ত্বকের প্রত্যেকটি Pores লোমকুপের মাধ্যমে Sebaceous (তৈল গ্রন্থি) এর সাথে যুক্ত । এই Sebaceous গ্রন্থি ত্বককে নরম ও কোমল রাখে । কিন্তু এই গ্রন্থির অতিরিক্ত তৈল নিঃসরণের ফলে ত্বক বেশি তৈলাক্ত হয় এবং ত্বকের অতিরিক্ত তৈলের জন্য বেশি পরিমাণ ময়লা জমা হয় । ফলে, ব্রণ গুলো নিন্মোক্ত ভাবে তৈরি হয়ঃ

১। ত্বকের বেশি পরিমাণ তৈল তৈরির কারনে
২। ত্বকের ছিদ্রগুলো মৃত কোষের মাধ্যমে ভরাট হয়ে গেলে ।
৩। ত্বকের ছিদ্রে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিলে ।

উপরোক্ত উপায়ে ত্বকে ব্রণ তৈরি হয়, তাই নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেয়া উচিৎ যাতে ত্বকের এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

ব্রণের রিক্স ফ্যাক্টর সমূহঃ

ব্রণের কারণ হিসেবে অনেকেই অনেক ধরণের ব্যাখা দিয়ে থাকে । অনেকে অনেক ধরণের খাবারকে ব্রণের জন্য দায়ী হিসেবে বিবেচনা করেন । আসুন, দেখে নিই, ব্রণের মূল কারণ সমূহ কি কি ?

১। হরমোনের পরির্বতনের ফলে ত্বকে ব্রণ দেখা দেয় ।
২। কিছু জন্ম নিয়ন্ত্রন বড়ি খাবার কারনে ত্বকে ব্রণ হতে পারে ।
৩। অনেক খাবারে বেশি পরিমানে সুগার বা কার্বোহাড্রেট বেশি হলে ত্বকে ব্রণ দেখা দিতে পারে ।
৪। ব্রণ বংশগত কারনে ও দেখা দিতে পারে ।

বয়ঃসন্ধি কালে সাধারনত বেশি পরিমানে ব্রণ দেখা দিতে পারে। এই সময়ে ত্বকে অনেক বেশি হরমোনের পরিবর্তন হয়, ফলে ত্বকে বেশি পরিমানে ব্রণ দেখা দিতে পারে ।

ব্রণ কিভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে ?

কিছু কিছু প্রস্তুতি আগে থেকে থাকলে ত্বকের ব্রণ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব । আসুন দেখে নিই, কিভাবে ত্বকের ব্রণ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভবঃ

১। নিয়মিত দিনে দুইবার মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা ।
২। ত্বকের জন্য ব্রণের ক্রিম ব্যাবহার করা যেতে পারে যাতে ত্বকে বেশি পরিমাণ তৈল জমতে না পারে ।
৩। যে সব প্রসাধনী তৈল জাতীয়, তা পরিহার করতে হবে ।
৪। রাতে ঘুমানোর পূর্বে কোন প্রসাধনী ব্যাবহার করা যাবে না, ঘুমানোর পূর্বে অবশ্যই মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে ।
৫। ব্যায়ামের পর গোসল করলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে ।
৬। আট-স্যাট ধরণের পোশাক পরিহার করা ভাল ।
৭। স্বাস্থ্যকর ও কম মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে ।
৮। মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা ।

ব্রণের চিকিৎসা

ব্রণের জন্য আপনি ঘরে বসেই কিছু ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন

১। ব্রণ যুক্ত মুখ প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা ।
২। প্রতিদিন মাথায় শাম্পু ব্যাবহার করা যাতে মুখে যেন শাম্পু না লাগে ।
৩। Water Based প্রসাধনী ব্যাবহার করা (leveled Non-comedogenic)
৪। মাথায় Hat বা Headbands ব্যাবহার না করা ।
৫। ময়লা হাতে মুখ স্পর্শ না করা ।

MEDICATIONS

উপরোক্ত উপায়ে ব্রণ দূর করতে না পারলে নিন্মের ঔষধ ব্যাবহার করা যেতে পারে ।

  • Benzoel Peroxide: ব্রণের জন্য Benzoel Peroxide ঔষধ ব্যাবহার করা হয়, ইহা মূলত ক্রিম বা জেল হিসেবে ব্যাবহৃত হয় । এই Benzoel Peroxide ব্রণের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
  • স্যালিস্যাইলিক এসিডঃ ব্রণের চিকিৎসায় এই স্যালিস্যাইলিক এসিড বহুল ব্যাবহৃত । ইহা মূলত মুখ পরিষ্কার করতে ফেস ওয়াশ হিসেবে ব্যাবহার করা হয় ।
  • Retinol: ব্রণের চিকিৎসায় Retinol একটি বহুল ব্যাবহৃত। ইহা ত্বকের অতিরিক্ত তৈল নিয়ন্ত্রন করে, ফলে ত্বকের ব্রণ ভালো হয়ে যায় ।

ঔষধ ছাড়া ব্রণের চিকিৎসা

ব্রণের চিকিৎসায় অত্যাধুনিক চিকিৎসা হল একটি Blue Light ট্রিটমেন্ট, পরীক্ষায় দেখা যায় যে Blue Light এ ব্রণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না । ব্রণের উপর এই Blue Light প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ব্রণের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোন প্রকার ঔষধ ব্যাবহার না করার কারনে ইহা ত্বকের কোন ক্ষতি করে না, তাই ১০০% পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত এই চিকিৎসা । তাই ব্রণের চিকিৎসায় Acne Blue মেশিন ব্যাবহার করা যেতে পারে ।

Related Product

[vc_column]

-37%

Skin Care

Whiten Set

৳ 6,350 ৳ 3,999

Hair Growth & Unwanted Hair Control

Dermedics SHR Roll On

৳ 2,450
View product
৳ 1,250
View product

Premium Skin Clinic Products

Skinclinic Vita C6 Cream

৳ 3,999
View product
[/vc_column]

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *