ফর্সা, কোমল ও দাগহীন ত্বকের ঘরোয়া পদ্ধতি VS চিকিৎসা

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে ত্বকের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া খুব মুশকিল। অযত্নের অভাবে ধীরে ধীরে ত্বক অনুজ্জ্বল, মলিন ও দাগযুক্ত হয়ে যায়। ছেলে বা মেয়ে সে যেই হোক না কেন সুন্দর সব কিছুই সবার কাছে গ্রহনযোগ্য এবং আকর্ষণীয়। আর নিজেকে সুন্দর দেখাতে কে না চায় ! তাই যত ব্যস্ততায় থাকুক না কেন আমাদের উচিত নিজের ত্বকের যত্নে কিছুটা সময় বের করা। আর বর্তমান সময়ে যেহেতু সময়ের অভাব নেই তাই ত্বকের প্রয়োজনীয় চর্চাটুকু আমরা করতেই পারি।

ত্বক কেন কালো হয় : ত্বক কাল হয়ে যাওয়ার সাধারন ও প্রধান কারণ হল সান বার্ন অর্থাৎ রোদে পোড়া। রোদের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকে বেশি পরিমাণে লাগার ফলে ত্বক কালো হয়ে যায়। মেলালিন শরীরে বেশি থাকার কারণে ত্বক কালো হয়। মেলালিন ত্বকের একটি উপাদান। যার শরীরে মেলানিন যতো বেশি, সে ততো কালো। তাছাড়া পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, শুষ্ক ত্বক, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারনেই ত্বক কালো ও মলিন হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ত্বক কালো হয়ে যাওয়ার পিছনে নিজের অভ্যাস ও থাকে। আমরা অনেক সময় বাইরে থেকে এসে ভাল করে ত্বক পরিষ্কার করি না এবং বাইরে যাওয়ার সময় সান প্রটেক্টর লাগাই না। এই সব নানা কারনে ত্বক কালো হয়ে যায়। ত্বক ফর্সা , কোমল ও দাগহীন করার জন্য ঘরোয়া পদ্ধতি বা চিকিৎসা যে কোন কিছুই আমাদের ভাল লাগতে পারে বা আমরা বেছে নিতে পারি । আসুন আমরা জেনে নেই ত্বকের যত্নে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি এবং চিকিৎসা।

ফর্সা, কোমল ও দাগহীন ত্বকের ঘরোয়া পদ্ধতিঃ ত্বকের যত্নে ঘরোয়া পদ্ধতি একটু ঝামেলার বা সময় বেশি লাগলেও অনেকেরই এই ঘরোয়া পদ্ধতি ভাল লাগে। আমরা প্রাকৃতিক অনেক উপদান দিয়েই ত্বক ফর্সা, কোমল ও দাগহীন করতে পারি। যেমন –

১। শসা স্বাস্থ্য ও ত্বক দু’য়ের জন্যই অনেক ভাল। শসা ত্বক ফর্সা ও দাগহীন করতে সাহায্য করেশসার রস বা শসা গ্রেড করে ত্বকে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হয়ে যাবে।

২। ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি অনেক গুরুত্বপূর্ণ । ভিতামিন সি ত্বক ফর্সা ও কোমল করে । আমরা কমলালেবু ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারি কারন কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে।

৩। হলুদ ত্বকের জন্য অনেক উপকারি । হলুদ ত্বকের ছোপ ছোপ কালো দাগ দূর করে এবং ত্বক ফর্সা করে। হলুদ বেটে এতে দুধ এবং লেবুর রস মিশিয়ে দিনে ২০ মিনিট রেখে দিলে ত্বক ফর্সা , কোমল ও দাগহীন হবে।

৪। ত্বকের যত্নে এলোভেরার কোন তুলনা হয় না। এলোভেরার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন এতে ত্বকের কালো দাগ এমনকি চোখের নিচের কালো দাগ ও দূর হবে।

৫। টক দই ও মধু একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান এতে ত্বক ফর্সা ও কোমল হবে।

৬। ত্বকের যত্নে আপনি কলা ব্যবহার করতে পারেন। কলা ত্বক কোমল ও সাস্থ্যকর করে।

ফর্সা , কোমল ও দাগহীন ত্বকের চিকিৎসাঃ  আপনি যদি খুব দ্রুত ফর্সা , কোমল ও দাগহীন ত্বক চান তবে চিকিৎসা বেছে নিতে পারেন । এই চিকিৎসা গুলো কোন প্রকার পারস্প্রতিক্রিয়া ছারায় আপনার ত্বক ফর্সা , কোমল ও দাগহীন করবে।

এক্সফলিয়েশনঃ ত্বকের যত্নে এক্সফলিয়েশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে দুই বার এক্সফলিয়েশন করা যেতে পারে। ত্বকে এক্সফলিয়েশন আপনার রোদে পোড়া দাগ, ছোপ ছোপ কাল দাগ, ব্রনের দাগ, মরা কোষ তুলে ফেলে। এতে ত্বক ফর্সা ও দাগহীন হয়। এক্সফলিয়েশনের জন্য রিভিট মাইক্রোডারমাব্রেশন চিকিৎসাটা অনেক কার্যকরী। এর ডায়মন্ড পিলিং আপনার ত্বকের এক্সফলিয়েশন করিয়ে রোদে পোড়া দাগ, ছোপ ছোপ কাল দাগ, ব্রনের দাগ, মরা কোষ তুলে ফেলে। ত্বকের যত্নে রিভিট মাইক্রোডারমাব্রেশন একটি জনপ্রিয় ট্রিটমেন্ট।

ফেসিয়ালঃ ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মাসে ২ বার অথবা ১ বার ফেসিয়াল করা প্রয়োজন। তবে যে কোন ক্যামিকাল ফেসিয়াল ত্বকের জন্য ভাল না । এক্ষেত্রে আপনি বায়োহাইড্রাফেসিয়াল করতে পারেন। এই ফেসিয়ালে কোন প্রকার ক্ষতিকারক কেমিকেল যেমন, ব্লিচিং উপাদান, মারকারী ও হাইড্রোকুইনন ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ ফেসিয়াল লাইট এবং ফেস সেরাম ব্যবহার করে অনেকগুলো ধাপে করা হয়ে থাকে। এই ফেসিয়াল ত্বকের রোদে পোড়া দাগ, ব্রনের দাগ, ছোপ ছোপ কাল দাগ এমনকি মেছতাও দূর করতে পারে। একটা ফেসিয়াল এ আপনি তফাৎ বুঝতে পারবেন। বিশ্বের অনেক দেশেই এই ফেসিয়াল অনেক জনপ্রিয়।

ইপিএনঃ  ইলেকট্রোপোরেশান-(ইপিএন) নিডেলিং একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন কার্যকরী চিকিৎসা যার মাধ্যমে ত্বকের ভেতরে পুষ্টিকর উপাদান ঢুকিয়ে দেয় কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া। এই চিকিৎসার মাধ্যমে আপনার ত্বকের কালো দাগ, ব্রণের দাগ, রোদে পোড়া দাগ ভাল হয়ে যাবে খুব দ্রুত।

দিনে এবং রাতের যত্নঃ এই সার্ভিস গুলোর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই দিনে ত্বকে ক্রিম এবং রাতে ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। ক্রিম কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এই ক্রিম এ কি কোন ক্ষতিকর উপাদান আছে নাকি যা আপনার ত্বকের জন্যে ক্ষতিকর।

বিঃদ্রঃ আপনি উপরের যাই করুন না কেন, রোদে যাওয়ার সময় SPF 50+ এবং বাসায় রান্না করার সময় SPF 40+ সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে ত্বক আবার কালো, বিবর্ণ ও মলিন হয়ে পরবে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *