৫ স্টেপ স্কিন ব্রাইটেনিং রুটিন

আচ্ছা কারো গায়ের রং ফর্সা আবার কারো গায়ের রং কালো, কেউবা আবার শ্যমলা, আবার পশ্চিমারা একদম ধবধবে সাদা। এমন বিচিত্র গায়ের রং মানুষের কেন হয়, কখনো ভেবে দেখেছেন? 

একেক জন মানুষের একেক রকম গায়ের রং হওয়ার একটাই কারন সেটা হলো মেলানিন। মেলানিন এর কারনেই আমাদের একেক জনের গায়ের রং একেক রকমের হয়। মেলানোসাইটস নামের একধরনের বডি সেল থেকে এই মেলানিন তৈরী হয়। যার শরীরে মেলানিন বেশি তৈরী হয় তার গায়ের রং কালো আর যার শরীরে মেলানিন কম তার গায়ের রং হয় ফর্সা।

এখন যাদের গায়ের রং কালো তারা নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন, বলতে পারেন কেন এই মেলানিন বেশি মাত্রায় আমাদের শরীরে এলো…

আমি বলছি এভাবে ভাববেন না, কারন এই মেলানিন আমাদের শরীরকে ক্ষতিকারক সূর্যের সব রশ্মি থেকে রক্ষা করে। 

একজন সাদা ইউরোপিয়ানকে যদি আমাদের দেশের কড়া রোদে কিছুক্ষন রাখা হয় তার শরীরে র‍্যাসেজ আসবে, সানবার্ন হবে। কারন তার শরীরে মেলানিন এর পরিমাণ কম। আপনি আমি কিন্তু একটু রোদে দাঁড়ালে আমাদের খুব একটা ক্ষতি কিন্তু হবে না। কারন আমাদের শরীরে আছে মেলানিন। আর এই মেলানিন জেনেটিক কারনেই আমাদের শরীরে থাকে।

অনেকেই আছেন যারা নিজেদের গায়ের রং ফর্সা দেখতে চান। ফর্সা হতে গিয়ে তারা ইউজ করেন রাতারাতি রং ফর্সা করে এমন কিছু ক্রিম। এই ক্রিম গুলো মূলত আপনার স্কিনকে ব্লিচ করে দেয়। এই সব ক্রিমে থাকে হাইড্রোকুইনন। যা আপনার শরীরে মেলানোসাইট বডিসেল গুলোকে ধ্বংস করে দেয় এবং মেলানিন তৈরী হতে দেয় না। আপনাকে হয়তো সাময়িকভাবে ফর্সা দেখাবে কিন্তু এই ক্রিম ব্যবহারে, কিন্তু তাতে আপনার স্কিন হবে ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। অনেক দেশ তো এইসব হাইড্রোকুইনন যুক্ত প্রোডাক্ট অলরেডি ব্যান করে দিয়েছে। এইসব প্রোডক্ট ব্যবহারের পর আপনি যাই করেন না কেন আপনার স্কিন কিন্তু আর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না।

তাই যারা ফর্সা হতে চান তাদের জন্যে আমি আজকে দেখাবো একটি স্কিন কেয়ার রুটিন। যেখানে আমি ব্যবহার করবো মাত্র ৫টি প্রোডাক্ট। যেসব প্রোডাক্টে ক্ষতিকর হাইড্রোকুইনন নেই। মেলানোসাইট বডি সেলের কোন রকম ক্ষতি না করেই এই প্রোডাক্ট গুলো আপনার স্কিনকে করবে ফর্সা ও উজ্জ্বল।

 

স্টেপ ১

স্কিন কেয়ার রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্কিন ক্লিঞ্জিং। স্কিন ক্লিঞ্জার জেল হিসেবে আমি দেখাচ্ছি ইউরোপিয়ান ব্র্যান্ড লারেল হোয়াইটেনিং ফেসওয়াশ জেল। এতে আছে মালবেরী এক্সট্রাক্ট, কিউকাম্বার এক্সট্রাক্ট এবং লেমন এক্সট্রাক্ট। এই ফেস ক্লিঞ্জার টি আপনার ফেস ড্রাই করবে না। তবে আপনার স্কিনের সব ইমপিউরিটি দূর করে দেবে। সকাল সন্ধ্যায় অথবা রাতে যখনই আপনার মনে হবে যে এখন স্কিনটা ওয়াস করা প্রয়োজন, ব্যবহার করুন লারেল হোয়াইটেনিং ফেসওয়াস জেল।

 স্টেপ ২

ক্লিঞ্জিং এর পর সাধারনত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। আমিও আপনাদের তাই সাজেস্ট করবো, আমি এমন একটি প্রোডাক্ট আপনাদের সাজেস্ট করবো যেটা দিনে ও রাতে দুই বেলাতেই ব্যবহার করা যাবে। এই ক্রিমটি হলো বায়ো কেয়ার এর কুইক হোয়াইটেনিং ডে-নাইট ক্রিম। স্কিনের মেলাজমা, ফ্রেকেলস, যে কোন কঠিন ডার্ক স্পটের বিরুদ্ধে কাজ করবে এই ক্রিম। আর যারা প্রোডাক্ট এর ইনগ্রিডিয়েন্টস এর ব্যাপারে সচেতন  তারা এই ভিডিওর নিচে দেয়া লিংক এ গিয়ে ইনগ্রিডিয়েন্টসগুলো একটু দেখে নিবেন। 

কিন্তু একটা ব্যপার আপনাদের জানিয়ে দেই। এই ক্রিম ব্যবহার করে যদি সানলাইটে যেতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে সান প্রোটেকশান ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। আর এমনিতেও আপনি যদি ফর্সা হতে চান আপনাকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেই হবে।কারন সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মিই আপনার গায়ের রং কে আরো ডার্ক করে দিতে পারে।

 স্টেপ ৩

সানস্ক্রিন হিসেবে আমি আপনাদের সাজেস্ট করবো বায়োস্ক্রিন সানস্ক্রিন ক্রিম। এই সানস্ক্রিন ক্রিমটার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই বায়োস্ক্রিনে আছে বিবি ক্রিম । যেটা ব্যবহারে আপনাকে অয়েলি তো দেখাবেই না বরং আপনাকে দেবে ইন্সট্যান্ট একটা মেকআপ লুক। আর সান প্রোটেকশান তো পাবেন সবচেয়ে বেস্ট। সাধারনত ৫০এসপিএফ আমাদের দেশের ওয়েদার এর জন্যে যথেষ্ট কিন্তু বায়োস্ক্রিনে আপনি পাবেন ৬০এসপিএফ। তাই সানবার্নের কোন টেনশনই নেই।

 

 স্টেপ ৪

ফেসের হোয়াইটেনিং তো হল, কিন্তু বডি হোয়াইটেনিং? ফেস ক্রিম ইউজ করে দেখা গেলো আপনার ফেস ফর্সা হয়ে গেলো কিন্তু আপনার হাত, গলা, ঘাড় এসব আগের মতই ডার্ক রয়ে গেলো। তাই স্কিনের সব জায়গায় একটা ইভেন টোন আনতে আপনাকে বডি হোয়াইটেনিং ক্রিম ও ব্যবহার করতে হবে। আমি আপনাদের সাজেস্ট করছি বায়ো কেয়ার এর হ্যান্ড এন্ড বডি হোয়াইটেনিং ক্রিম। এই ক্রিমের সবচেয়ে ভালো দিক হল, এটা ব্যবহার করলে আপনাকে কোন সান প্রোটেকশান ক্রিম ব্যবহার করতে হবে না। কারন এতে আছে ৫০+ এসপিএফ। আর ইনগ্রিডিয়েন্টস এর ব্যাপারে একদম ডিটেলস জানতে আমি এই সবগুলো প্রোডাক্টের লিংক দিয়ে দিচ্ছি লিঙ্কে গিয়ে দেখে নেবেন। 

স্টেপ ৫

আমাদের হোয়াইটেনিং এর জন্যে স্কিন কেয়ার মোটামুটি কমপ্লিট তবে আরেকটা প্রোডাক্ট এর কথা না বললে রুটিনটা অপূর্ণই থেকে যাবে। সেটা হল সিরাম। রাতে ঘুমানো আগে স্কিন ক্লিন করার পর আপনি ব্যবহার করবেন লারেল ব্র্যান্ডের এই সিরামটি যার নাম- লারেল হোয়াইটেনিং ফেস সিরাম। স্কিনে ডিসকালারেশন, ডার্ক স্পট এর বিরুদ্ধে এটি কাজ করবে। সিরামটি ড্রপার দিয়ে স্কিনে দিয়ে  ট্যাপ করে করুন। ৩-৫ মিনিট সময় দিন স্কিনকে সিরামটি এবজর্ব করার জন্যে। এরপর আপনি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ঘুমাতে চলে যাবেন।

 

ব্যাস হয়ে গেলো আপনাদের স্কিন হোয়াইটেনিং এর রুটিন। মাত্র ৫টি প্রোডাক্ট নিয়মিত ব্যবহার করুন আর কার কেমন এক্সপেরিয়েন্স হলো সেটা আমাদের কমেন্ট করে জানান। আর প্রোডাক্ট গুলো সম্পর্কে আরো জানতে নীচের দেয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন। হোয়াইটেনিং নিয়ে আরো কিছু জানতে চাইলে এই ব্লগে কমেন্ট করুন। বায়োজিনের স্কিন  কেয়ার স্পেশালিস্টরা আপনাদের প্রশ্নের সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে হাজির হবেন। অন্য কোন দিন অন্য কোন টিপস অথবা স্কিন কেয়ার রুটিন নিয়ে আবার হাজির হয়ে যাব। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন, ভালো রাখুন। যত্ন নিন আপনার ও আপনার পরিবারের ত্বকের।

Facebook Comments