সাইকেল চালানো কেন ভাল?

আজকাল ১০ জনের মধ্যে ৯ জন লোকেরই বয়স ত্রিশ ছোঁয়ার আগে ধরা পড়ে নানা ধরণের জটিল রোগ। এর একটি বড় কারণ আমাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। সারাদিনের কাজের চাপের পর ব্যায়াম করার সময় কিংবা মনোবল কয়জনেরই বা থাকে বলুন? এক্ষেত্রে সাইকেল চালানো অনেক দিক থেকেই আপনার উপকারে আসতে পারে। কীভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাকঃ

ওজন কমায়
সাইকেল চালানো এক ধরণের ব্যায়াম, নিয়মিত সাইকেল চালালে কমে যায় পেট ও নিতম্বের বাড়তি মেদ। পাশাপাশি দেহের পেশিগুলোও হয় টানটান।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর মাধ্যমে ঠিক এরোবিক এক্সারসাইজের মতই কাজ করে সাইকেল চালানো, ফলে হার্ট ও ফুসফুস থাকে সুস্থ।

গিঁটে ব্যাথা কমায়
বয়স যতই হোক না কেন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে আমাদের সবারই আজকাল শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যাথা হয়। সাইকেল চালালে গিঁটের ব্যাথা, বিশেষ করে হাঁটুর ব্যাথা দূর হয় অনেকটাই।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আমাদের শরীরে নানা ধরণের বিষাক্ত উপাদান জমা করে, যা থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সাইকেল চালালে তা আপনার শরীরের কোষগুলোকে সক্রিয় রাখবে এবং স্তন ক্যান্সার ও মলাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে।

মনোযোগ বাড়ায়
সাইকেল চালানোর সময় আপনার রাস্তার দিকে বেশ খানিকটা মনোনিবেশ করতে হয়। প্রতিদিনের এই অভ্যাস আপনাকে একাগ্রভাবে কোন বিষয়ে মনোনিবেশ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পারফরম্যান্স আগে থেকে ভাল হবে। পাশাপাশি দুশ্চিন্তা মন থেকে সরিয়ে দেয়ায় মন উৎফুল্লও থাকবে।

ঘুম ভাল হয়
প্রতিদিন সাইকেল চালালে ব্যায়াম হয়, ফলে শরীর দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাদের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে, সন্ধ্যাবেলা কিছুক্ষণ সাইকেল চালানো তাদের জন্য দারুণ উপকারী অভ্যাস। এছাড়া আপনি চাইলে সকালেও সাইকেল চালাতে পারেন, তাহলে সারাদিন আপনার শরীর কর্মচঞ্চল থাকবে এবং রাতে ঘুমও হবে ভাল।

কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তি
সাইকেল চালানো আপনার হজম প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে তুলে, ফলে কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের জন্য সাইকেল চালানো উত্তম।

Facebook Comments