শরীরের ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন তো!?

আমরা যখন ত্বকের যত্নের কথা চিন্তা করি, তখন সাধারণত মুখের যত্নের কথাই আমাদের মনে আসে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মুখের ত্বকের যত্ন আমাদের কাছে প্রাধান্য পায়- যেহেতু সবার চোখ আগে মুখের দিকেই যায়। বাকি শরীরের ত্বকেরও যে যত্নের প্রয়োজন আছে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের মাথায়ই থাকে না। এটি একটি সমস্যা কারণ আপনার ত্বকের অবহেলা করা আপনার স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত নিখুঁত ফ্ললেস দেখাতে কে না চায় ?!

মুখে যেমন ফেসিয়াল ক্লিনজার, এক্সফোলিয়েটার এবং ময়েশ্চারাইজার (এবং আরও অনেক কিছু) ব্যবহার করা উচিত, তেমনি আপনার ঘাড়, গলা, হাত, পিঠের ত্বকের যত্নেও ভালমানের পণ্য ব্যবহার করা উচিত। কারণ চকচকে, মসৃণ মুখ কিন্তু রুক্ষ, শুষ্ক হাত, পিঠ আপনার আকর্ষণীয়তা কমিয়ে ফেলে বহুগুনে। তাই নিয়ম করে ফেইস স্কিনকেয়ার রুটিন এর সাথে দরকার পরিপূর্ণ বডিকেয়ার রুটিন।

১। ক্লিনজিংঃ

যদি আপনার মুখের জন্য ইতিমধ্যে ত্বকের যত্নের নিয়মিত রুটিন থাকে তবে আপনি সম্ভবত প্রথম পদক্ষেপটি অনুমান করতে পারছেন। শরীরের যেকোনো অংশের যত্নের প্রথম ধাপ হলো ক্লিঞ্জিং। শরীরের ত্বক পরিস্কারের জন্যে ভালমানের বডিওয়াশ ব্যবহার করুন। আপনার ফেসওয়াশটিই বডিওয়াশ এর কাজ করে দেবে এমনটা ভাববেন না। এমন বডিওয়াশ বাছুন যা আপনার ত্বককে রুক্ষ শুষ্ক করবে না। সাথে লুফাহ বা ওয়াশ ক্লথ ব্যবহার করতে হবে।

২। এক্সফলিয়েশনঃ

নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন আপনার ত্বকের উপরিভাগ থেকে মরা কোষ সরিয়ে ত্বককে ময়েশ্চারাইজিং এর জন্যে উপযোগী করে তোলে। শরীরের ত্বক মুখের ত্বকের মতন পাতলা নয় তাই নিশ্চিন্তে সপ্তাহে ২/৩ বার এক্সফলিয়েট করুন। সপ্তাহে দুই বা তিনবার আপনার শাওয়ারের রুটিনে স্ক্রাব যুক্ত করুন এবং আলতো করে স্ক্রাবটি ম্যাসেজ করে আপনার শরীরকে এক্সফোলিয়েট করুন। কনুই, হাঁটু এবংপায়ের গোড়ালি স্ক্রাবিং এ মনোযোগ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন কেননা শরীরের এই জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশনের প্রয়োজন অন্যথায় রুক্ষতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৩। ময়েশ্চারাইজেশনঃ

ক্লিনজিং, এক্সফলিয়েশন বা শেভিং, সবকয়টির পরেই ময়শ্চারাইজ করা উচিত। শাওয়ার এর পর ত্বক আদ্র থাকার সময়ই ত্বককে হাইড্রেট করার জন্য আদর্শ সময়। আপনার ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত একটি হাইড্রেটিং ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। ত্বককে সেই ক্রিম বা লোশন শোষণ করার সময় দিন। তারপর পোশাক পড়ুন। 

৪। সানব্লকঃ

মুখের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশও সানবার্ন ও সানড্যামেজ হতে পারে। তাই বাসা থেকে বের হবার সময় অবশ্যই নিয়ম করে মুখের পাশাপাশি শরীরের বাকি উন্মুক্ত  জায়গাতে ও সানব্লক লাগাতে হবে।

সৌন্দর্য শুরু হয় ভিতরে থেকে। শরীরে আপনি যেই পণ্যই ব্যবহার করেন না কেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল স্বাস্থ্যকর ডায়েট খাওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। এই অভ্যাসগুলো ত্বকের স্বাস্থ্যে একটি বিশাল পার্থক্য আনতে পারে।

Facebook Comments