অকালে চুল পাকছে?

আপনার বয়স ত্রিশের কোঠায় এখনও পৌঁছায়নি, কিন্তু চুলে ধরেছে পাক? তাহলে বলতে হয় আপনি একা নন, এই সমস্যায় আজ ভুগছে অনেকেই। তবে শুরুতেই হেয়ার কালারের দিকে হাত না বাড়িয়ে বেছে নিতে পারেন কয়েকটি প্রাকৃতিক উপায়, যাতে হেয়ার কালারের মত রাসায়নিক উপাদান ছাড়াই আপনার চুলকে কালো করতে সাহায্য করবে।

চুলে খানিকটা পাক ধরলেই শুরু করে দিন যত্ন। একটু বাড়তি দেখভাল আপনার চুলকে অকালে পেকে যাওয়া থেকে তো বাঁচাবেই, পাশাপাশি চুলকে মজবুত ও প্রাণবন্ত করে তুলবে। তবে চলুন দেখে নেই এমন কয়েকটি ঘরোয়া পন্থাঃ

মেহেদি পেস্ট
পাকা চুল ঢাকতে মেহেদির ব্যবহার আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। বাজারে নানা ধরণের মেহেদি গুঁড়া পাওয়া যায়। মেহেদি গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে নিন খানিকটা মেথির বীজ, টকদই, কফি, তুলসি ও নিম পাতার গুঁড়া—এবার সবগুলো উপকরণ ভাল করে ফুটিয়ে নিন ১৫ মিনিট। রেখে দিন সারারাত। সকালে উঠে মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ঠিক তিন ঘন্টা, এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আমলকীর মিশ্রণ
চুল কালো করতে আমলকীর নাম নতুন নয়। মেহেদি গুঁড়ার সাথে ব্যবহার করতে পারেন আমলকীও। শুকনো আমলকী নিয়ে দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। পানিটি ফেলে দিবেন না, ভেজানো আমলকীগুলো বেটে নিন। এরপর চা চামচের ৫ চামচ লেবুর রস, কফি ও একটি কাঁচা ডিম ভেঙ্গে মেহেদি গুঁড়ার সাথে মিলিয়ে নিন, তাতে যোগ করুন আমলকীর পেস্ট ও ভিজিয়ে রাখা পানিটি। পুরো মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে তা চুলে লাগান। সপ্তাহে দুইবার এই মিশ্রণটি চুলে দুঘন্টা লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

নারকেল তেল
নারকেল তেলের সঙ্গে আমলকীর মিশ্রণ চুল পাকা রোধে দারুণ কাজ করে। শুকনো আমলকী নারকেল তেলের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে তা ফুটিয়ে নিন, এভাবে রেখে দিন সারারাত। পরদিন সকালে তেলটি চুলে লাগান। চাইলে এই মিশ্রণে খানিকটা আদা কুঁচি কিংবা মধুও যোগ করতে পারেন।

শহুরে জীবনে নিয়মিত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ—চুলের অকালপক্কতার রয়েছে এমন আরও অনেক কারণ। তাই পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবার গ্রহণ করার চেষ্টা করুন, ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন ও দুশ্চিন্তা কম করার চেষ্টা করুন।

Facebook Comments